খুলনার দৌলতপুর ডিপো থেকে রাজশাহী ও নাটোরের রেলওয়ের প্রধান ডিপোতে দেড় মাস ধরে ডিজেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় উত্তরাঞ্চলের চার জেলায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এতে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁর কৃষি ও ব্যবসা খাত মারাত্মক চাপে পড়েছে।
জ্বালানি সরবরাহকারী বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তিন বিপণন প্রতিষ্ঠানৎ- পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির দৌলতপুর ডিপোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেড় মাস ধরে রাজশাহী ও নাটোরে কোনো ডিজেল পাঠানো হয়নি। সর্বশেষ গত ২০ ফেব্রুয়ারি নাটোর এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর ডিপোতে তেল সরবরাহ করা হয়। এরপর আর কোনো চালান পাঠানো হয়নি।
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত খুলনার দৌলতপুর ডিপো থেকে সপ্তাহে ১০ থেকে ১৫ লাখ লিটার ডিজেল ৩০টি রেলওয়ে ওয়াগনের মাধ্যমে রাজশাহী ও নাটোরে পাঠানো হয়। ডিলাররা সেখান থেকেই সরাসরি তেল সংগ্রহ করেন। তবে হেড অফিসের সিদ্ধান্তে হঠাৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
এতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলোর শতাধিক ডিলার-এজেন্ট বিপাকে পড়েছেন। বিকল্প হিসেবে সড়কপথে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ডিপো থেকে তেল আনতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে পরিবহন খরচ প্রায় তিনগুণ বেড়ে গেছে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতে। চলনবিল-অধ্যুষিত নাটোরে চলতি বোরো মৌসুমে সেচ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলায় প্রায় ৫৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হলেও চাহিদামতো ডিজেল পাচ্ছেন না কৃষকরা। মোট চাহিদা প্রায় ২ কোটি ৪৬ লাখ লিটার হলেও সরবরাহে ঘাটতি প্রকট।
নলডাঙ্গার একাধিক কৃষক জানান, সেচের সময় তেল না পেলে ফসল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। একইভাবে ফিলিং স্টেশন মালিকরাও তেল সংকটে ব্যবসা পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তেল না থাকায় স্টেশন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার এক ফিলিং স্টেশন মালিক জানান, আগে রেলওয়ের ডিপো থেকে সরাসরি তেল সংগ্রহ করা গেলেও এখন বাধ্য হয়ে দূরবর্তী এলাকা থেকে তেল আনতে হচ্ছে, ফলে ব্যয় বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই সংকট নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

