১৮ মার্চ ২০২৬, বুধবার, ০২:২৪:২৬ অপরাহ্ন
যেভাবে বেঁচে ফিরলেন মোজতবা খামেনি
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৭-০৩-২০২৬
যেভাবে বেঁচে ফিরলেন মোজতবা খামেনি

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা সৈয়দ মোজতবা হোসেইনি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা থেকে বেঁচে গেছেন, যে হামলায় তার বাবা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা নিহত হন। ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর হাতে আসা একটি ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ড অনুযায়ী, বিস্ফোরণের মাত্র কয়েক মিনিট আগে ব্যক্তিগত কাজে ভবনের বাইরে পা রাখায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান।



ওই অডিও থেকে হামলার আরও কিছু লোমহর্ষক বর্ণনা পাওয়া গেছে। জানা গেছে, হামলায় ইরানের সেনাপ্রধানের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে ‘কয়েক কেজি মাংসে’ পরিণত হয়েছিল এবং আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জামাতার মাথা দ্বিখণ্ডিত হয়ে গিয়েছিল।


ফাঁস হওয়া এই রেকর্ডটি প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে, যে হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা, তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য এবং রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা নিহত হন।


যেভাবে মৃত্যু থেকে বেঁচে ফিরলেন মোজতবা


টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেকর্ডটি আলি খামেনির দপ্তরের প্রটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনির। তিনি গত ১২ মার্চ তেহরানে এক সভায় এই বর্ণনা দিয়েছিলেন।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে খামেনির বাসভবন ও দপ্তরে এই হামলা চালানো হয়। এটিকে খামেনি পরিবার এবং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে একইসঙ্গে নির্মূল করার একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।


হোসেইনি জানান, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি হামলার ঠিক আগ মুহূর্তে আঙিনায় বেরিয়েছিলেন এবং কাজ শেষে যখন সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছিলেন, ঠিক তখনই ভবনটিতে আঘাত হানা হয়। এই হামলায় তার স্ত্রী জোহরা হাদ্দাদ-আদেল এবং তাদের ছেলে সঙ্গে সঙ্গে নিহত হলেও মোজতবা কেবল পায়ে সামান্য আঘাত পেয়ে বেঁচে যান।


অন্যান্য ভয়াবহ তথ্য


আলি খামেনির অন্য ছেলে মোস্তফা খামেনিও হামলার সময় ‘কাছাকাছি’ ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি ও তার স্ত্রী অক্ষত অবস্থায় বেঁচে ফিরতে সক্ষম হন।


হোসেইনি আরও জানান, হামলাটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, ইরানের সেনাপ্রধান মোহাম্মদ শিরাজির দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং তাকে শনাক্ত করার জন্য কেবল ‘কয়েক কেজি মাংসপিণ্ড’ অবশিষ্ট ছিল। রেকর্ডিংয়ে খামেনির জামাতা মেসবাহ আল-হুদা বাঘেরি কানি-র মৃত্যুর বর্ণনাও দেওয়া হয়েছে, হামলার প্রচণ্ড আঘাতে তার মাথা দ্বিখণ্ডিত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।


হোসেইনির ভাষ্যমতে, খামেনি পরিবারের সদস্যদের আবাসনসহ দপ্তরের বিভিন্ন অংশে একযোগে একাধিক শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছিল।


শেয়ার করুন