বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সম্ভাব্য ঘনিষ্ঠতা এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক সমীকরণ নিয়ে ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের লিখিত জবাব দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং।
শুক্রবার লোকসভায় তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশের সামাজিক বন্ধনও ঘনিষ্ঠ। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জনকল্যাণমুখী উন্নয়নকে কেন্দ্র করে এগিয়ে চলছে এবং বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় নিয়মিত বৈঠক ও মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বর্তমানে স্পর্শকাতর কিনা এবং পাকিস্তান এ পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য যে কোনো দেশের প্রভাব থেকে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেসব ক্ষেত্রে ভারতের জাতীয় স্বার্থ জড়িত, সেগুলোতে দিল্লি সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, এ বিষয়টি ভারত সরকার ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠকে উত্থাপন করে আসছে। প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকেও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ প্রসঙ্গ তোলেন।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জোট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে সরকার সতর্ক নজর রাখছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেও নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে সম্পর্ক জোরদার করা হচ্ছে।
‘সবার আগে প্রতিবেশী’ নীতির আওতায় ভারত আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

