৩১ জানুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ০৩:৪৬:৫৬ অপরাহ্ন
নিজেদের তৈরি সাবমেরিনের ট্রায়াল সম্পন্ন তাইওয়ানের
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩১-০১-২০২৬
নিজেদের তৈরি সাবমেরিনের ট্রায়াল সম্পন্ন তাইওয়ানের

সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে তৈরি নিজেদের প্রথম সাবমেরিন নারওয়ালের প্রথম ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে চীনের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ-ভূখণ্ড তাইওয়ান। বৃহস্পতিবার সাগরে বেশ কিছু সময় ধরে চলানো হয়েছে নারওয়ালকে।


তাইওয়ানের নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দক্ষিণাংশে কাউসিউং সমুদ্রবন্দরের কাছে এই ট্রায়ালের আয়োজন করা হয়েছিল। সফলভাবে তা সম্পন্ন হয়েছে। সাবমেরিন কর্মসূচিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনসহ বেশ কয়েকটি দেশের দক্ষতা এবং প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে তৈরি করা হয়েছে, যা কূটনৈতিকভাবে আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন তাইওয়ানের জন্য একটি বড় অগ্রগতি।


নারওয়াল তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর তৃতীয় সাবমেরিন। বাকি যে দুটি সাবমেরিন আছে, সেগুলো গত শতকের আশির দশকে নেদারল্যান্ডের কাছ থেকে কিনেছিল তাইওয়ানের সরকার। সেগুলো এখনও চলছে। ২০২২ সালে প্রথম নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে সাবমেরিন তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় তাইওয়ানের সরকার। তারপর সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিএসবিসি কর্প নামে একটি তাইওয়ানিজ কোম্পানিকে। মোট আটটি সাবমেরিন তৈরির জন্য সিএসবিসি কর্পের সঙ্গে চুক্তি করে তাইওয়ানের সরকার।


চুক্তিতে উল্লিখিত আটটি সাবমেরিনের প্রথমটি হলো নারওয়াল। সিএসবিসি কর্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৭ সাল শেষ হওয়ার আগে আরো দুটি সাবমেরিন তৈরি করে নৌবাহিনীকে হস্তান্তরের পরিকল্পনা আছে তাদের। তবে ঠিক সময়ের মধ্যে সাবমেরিন প্রস্তুত করে হস্তান্তর করতে পারবেন কি না তা নিয়ে সন্দিহান সিএসবিসি কর্পসের কর্মকর্তারা। কারণ সরকারি চুক্তি অনুসারে ২০২৪ সাল শেষ হওয়ার আগে প্রথম সাবমেরিন নারওয়ালকে হস্তান্তরের কথা ছিল।


এক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেছেন, "আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা এবং চীনের সরকারের চাপের কারণে নারওয়াল তৈরির সময় আমাদের অজস্র ভোগান্তি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। তাই আমরা সর্বাত্মক প্রয়াস সত্ত্বেও আমরা ঠিক সময়ে সাবমেরিনটি নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে পারিনি। যদি এসব ভোগান্তি-চ্যালেঞ্জ অব্যাহত থাকে তাহলে সামনের সাবমেরিনগুলোর ক্ষেত্রেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে।"


প্রসঙ্গত, চীন বরাবর তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে, অন্যদিকে তাইওয়ান সব সময় চীনের এই দাবিকে অগ্রাহ্য করে নিজেদের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করে। চীনের এই 'হুমকি'র জবাব দিতে নিজেদের সামরিক ক্ষমতাকে আরো বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাইওয়ানের সরকার। এই দ্বীপ-ভূখণ্ডটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ২০২৫ সালে প্রতিরক্ষা খাতের বাজেট ৪০০ কোটি ডলার বৃদ্ধি করেছেন।


শেয়ার করুন