১৪ জানুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ০৩:২১:১৫ পূর্বাহ্ন
শীর্ষ ২০ খেলাপি থেকে ৭৪৫ কোটি টাকা আদায় করল সোনালী ব্যাংক
স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৩-০১-২০২৬
শীর্ষ ২০ খেলাপি থেকে ৭৪৫ কোটি টাকা আদায় করল সোনালী ব্যাংক

বছরের ব্যবধানে বড় ধরনের মূলধন ঘাটতি কাটিয়ে পরিচালন মুনাফায় নতুন রেকর্ড করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি।

মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি ও সিইও) মো. শওকত আলী খান। এ সময় ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা (সিএফও) ইকবাল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালে সোনালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল ৫ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে সেই ঘাটতি কাটিয়ে ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকের মূলধন উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি টাকা।

এমডি শওকত আলী খান বলেন, প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণের পরও ব্যাংকের নিট মুনাফা এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে। দীর্ঘদিনের মূলধন ঘাটতির অপবাদ থেকে বেরিয়ে আসা সোনালী ব্যাংকের জন্য এটি একটি বড় অর্জন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

খেলাপি ঋণ আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গত বছরে শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছ থেকে ৭৪৫ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে হলমার্ক গ্রুপ থেকেই আদায় হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। বাকি অর্থ আদায়ে সংশ্লিষ্ট মেশিনারিজ ও সম্পদ নিলামের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সব মিলিয়ে ২০২৫ সালে খেলাপি ঋণ থেকে নগদ আদায় হয়েছে ১ হাজার ২০৩ কোটি টাকা। নিয়মিত তদারকি, আইনি ব্যবস্থা এবং পুনঃতফসিল কার্যক্রমের মাধ্যমে ঋণ আদায় জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার কমে ১৫ দশমিক ৫২ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০২৬ সালে এই হার ১১ থেকে ১২ শতাংশে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে এক অঙ্কে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এমডি আরও জানান, ব্যাংকের ক্যাপিটাল রিস্ক ওয়েটেড রেশিও বর্তমানে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ১০ শতাংশের চেয়েও বেশি রয়েছে, ফলে ভবিষ্যতে ব্যাংকের ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকের বড় অঙ্কের পাওনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে এলসি পরিচালনার বিপরীতে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কমিশন এখনো পাওনা রয়েছে। এই অর্থ আদায় হলে ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

সোনালী ব্যাংকের প্রতি জনগণের আস্থা এখনো দৃঢ় উল্লেখ করে শওকত আলী খান বলেন, আমানতের প্রবাহ বাড়লেও ঋণ বিতরণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি না হয়।

শেয়ার করুন