১৩ জানুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৩:২৬:৫৭ অপরাহ্ন
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৩-০১-২০২৬
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত

নানা অভিযোগে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) তিন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। গত ১৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার (১২ জানুয়ারি) তাদের চাকরিচ্যুতি কার্যকর করে পৃথক চিঠি ইস্যু করা হয়।


চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা হলেন- লিয়াজোঁ ও প্রটোকল অফিসার ইসমাঈল হোসেন, সেকশন অফিসার ও চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার এবং সহকারী কলেজ পরিদর্শক রাসেদুল ইসলাম এবং সেকশন অফিসার জামাল উদ্দীন।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, লিয়াজোঁ ও প্রটোকল অফিসার ইসমাঈল হোসেনের বিরুদ্ধে জাল শিক্ষাগত সনদে চাকরি গ্রহণের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। নিয়োগের সময় তিনি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে প্রাপ্ত বিবিএ সনদ দাখিল করেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাইয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় লিখিতভাবে ওই সনদকে ‘জাল’ বলে নিশ্চিত করে। যাচাইয়ের আগেই ওই সনদের ভিত্তিতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি গ্রহণ করেন।


সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা শেষে সিদ্ধান্ত হয়, জাল সনদের মাধ্যমে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি গ্রহণ আইনগতভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ। ফলে ইসমাঈল হোসেনের নিয়োগ শুরু থেকেই বাতিল ও অকার্যকর হিসেবে গণ্য করে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরিকালে তিনি যে বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা হিসেবে গণ্য করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাল সনদ ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও সিন্ডিকেট অনুমোদন দেয়।


তবে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে মো. ইসমাঈল হোসেনের করা একটি রিট পিটিশন হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন থাকায় আদালতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তার বিরুদ্ধে চলমান বিভাগীয় কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। এরপরও জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত নিয়োগের কোনো বৈধতা না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষা ও সরকারি অর্থের অপচয় রোধে প্রশাসনিক আদেশে তার নিয়োগ বাতিল করা হয়। এ বিষয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে আদালতকে অবহিত করা এবং আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।


অন্যদিকে সেকশন অফিসার ও চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার এবং সহকারী কলেজ পরিদর্শক মো. রাসেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইসমাঈল হোসেনের জাল সনদে চাকরি গ্রহণে সহায়তার অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া ফাইল টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে অসদাচরণ এবং একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগও আনা হয়। অভিযোগের পর্যাপ্ত ভিত্তি পাওয়ায় গত ৭ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।


তদন্ত প্রতিবেদনে রাসেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বিধিমালার ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এবং ৩(ঘ) অনুযায়ী ‘দুর্নীতিপরায়ণতা’ হিসেবে প্রমাণিত হয়। বিষয়টি ১৯তম সিন্ডিকেট সভায় পর্যালোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, প্রায় ২০ বছর ইউজিসি ও রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে চাকরি থেকে স্থায়ী অপসারণ না করে গুরুদণ্ড হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হবে।


এদিকে, সেকশন অফিসার জামাল উদ্দীন ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। নিয়োগপত্র অনুযায়ী তার দুই বছরের প্রবেশনকাল চলমান ছিল। সিন্ডিকেট সভার মতে, তার নিয়োগকালীন শর্ত, প্রবেশনকালীন সার্বিক কর্মকাণ্ড ও কর্মদক্ষতা সন্তোষজনক নয়। ফলে নিয়োগপত্রের শর্ত অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হাসিবুল হোসেন জানান, তিন কর্মকর্তার চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে এবং সোমবার তাদের নামে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। তবে তারা চিঠিগুলো গ্রহণ করেছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


চাকরিচ্যুত সেকশন অফিসার জামাল উদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, ‘কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই আমাকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আমি আইনি লড়াই শুরু করব।’

শেয়ার করুন