রাজশাহীতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ডাকাতি মামলায় তিন ব্যক্তিকে ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীদের বন্ধু ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মাসুম।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গ্রেপ্তার চান সওদাগরের স্ত্রী ফারজানা বিথি ও বোন লাবনী।
এতে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মাসুম জানান, রাজপাড়া থানাধীন নতুন বিলশিমলা বন্ধগেট এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে গত ১০ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৩টার দিকে তিনজনকে গ্রেপ্তারের যে দাবি পুলিশ করেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো নাটক। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মোঃ বাধন চান সওদাগর (৩৫), মোঃ বিদ্যুৎ হোসেন (৩৭) ও মোঃ সাজ্জাদ হোসেন মুরাদ (২৮)। তারা সবাই রাজপাড়া থানার নতুন বিলশিমলা এলাকার বাসিন্দা।
তিনি বলেন, বাস্তবে কাউকেই ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাদের নিজ নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। বাসা থেকে ধরে নেওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তারের সময় ভুক্তভোগীদের বাড়িতে তল্লাশির নামে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের কথা বলা হলেও তল্লাশিতে কেবল কোরবানি কাজে ব্যবহৃত ২–৩টি চাকু ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। একইভাবে বিদ্যুৎ হোসেনের বাড়িতেও তল্লাশির নামে হয়রানি করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরদিন রোববার সকালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি ডাকাতি মামলায় তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো— মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে দেওয়া ডাকাতি মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার, অভিযুক্তদের দ্রুত জামিন নিশ্চিত করা, হয়রানির ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের লিখিতভাবে দুঃখপ্রকাশ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তারা আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং কোনো বিশৃঙ্খলা চান না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান জানান, ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ থাকলে তা পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিতভাবে জানাতে হবে। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

