১৩ জানুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ১১:৫৭:০০ পূর্বাহ্ন
তাদের আগ্রহ না থাকলেও কিছু একটা করব, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প
  • আপডেট করা হয়েছে : ১০-০১-২০২৬
তাদের আগ্রহ না থাকলেও কিছু একটা করব, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প

গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে হুমকি আরও জোরালো করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘তাদের আগ্রহ থাকুক বা না থাকুক—কিছু একটা করবই।’



এছাড়া ইরানে চলমান বিক্ষোভ ইস্যুতে দেশটির সরকারকে নতুন করে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। ইরানি নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তারা মানুষ হত্যা শুরু করে, আমরা জড়িয়ে পড়ব। গুলি ছোড়া শুরু করবেন না, কারণ তাহলে আমরাও গুলি ছোড়ব।’


স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে তেল ও গ্যাস শিল্পের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। খবর গার্ডিয়ান


ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যদি এটা না করি, তাহলে রাশিয়া বা চীন গ্রিনল্যান্ড দখল করে নেবে। আর আমরা রাশিয়া বা চীনকে প্রতিবেশী হিসেবে চাই না।’


তিনি আরও যোগ করেন, ‘সুতরাং আমরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কিছু একটা করব—হোক সেটা ভালোভাবে, না হলে আরও কঠিন উপায়ে।’


গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের এ মন্তব্য এমন এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও তার ন্যাটো মিত্রদের—বিশেষ করে ডেনমার্কের—সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা চরমে। তার প্রশাসন বারবার স্বায়ত্তশাসিত আর্কটিক অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিতে চাওয়ায় এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড উভয়ই ট্রাম্পের এই অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।


ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সতর্কবার্তার পরও—যিনি সম্প্রতি বলেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ মানে হবে ন্যাটো এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবসান’—ট্রাম্প জোটটির প্রতি তার সমর্থনের কথা জোর দিয়ে বলে যাচ্ছেন।


শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ‘আমার জন্য না হলে আজ ন্যাটো থাকতই না। কিন্তু আমরা রাশিয়া বা চীনকে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে দেব না, আর আমরা কিছু না করলে সেটাই হবে।’


ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই গ্রিনল্যান্ডে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। তিনি প্রথম প্রকাশ্যে এই অঞ্চল অধিগ্রহণের ধারণা তোলেন তার প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে। তখনই ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে প্রস্তাবটি।


সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প আবার বিষয়টি সামনে আনেন—বিশেষ করে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর আটক হওয়ার ঘটনার পর, যা হোয়াইট হাউসের ক্রমশ আরও আগ্রাসী অবস্থানের প্রতিফলন। ট্রাম্প বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তার গ্রিনল্যান্ড ‘খুবই জরুরি’।


এদিকে, গ্রিনল্যান্ডের জনগণ বারবার যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ২০২৫ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, ৮৫% গ্রিনল্যান্ডবাসী এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে, জরিপে দেখা যায়—গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনকে সমর্থন করেন মাত্র ৭% মার্কিন নাগরিক।


শুক্রবার ট্রাম্পের নজরে শুধু গ্রিনল্যান্ডই ছিল না। ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমন করতে সরকার যদি সহিংসতা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে—এমন হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।


ইরান ‘ভয়াবহ সমস্যায়’ আছে বলে বর্ণনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘আগের মতো যদি তারা মানুষ হত্যা শুরু করে, আমরা জড়িয়ে পড়ব। আমরা তাদের এমন জায়গায় আঘাত করব, যেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যথা পাবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘আর আবারও আমি ইরানি নেতাদের বলছি— গুলি ছোড়া শুরু করবেন না, কারণ তাহলে আমরাও গুলি ছোড়ব।’


শেয়ার করুন