শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর আহত মো. নবীন হোসেন নয়ন (২২) নামে আরও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এতে ওই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুইজনে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ভোররাতে জাজিরা থানার চেরাগ আলী বেপারী কান্দি গ্রামের নাসির বেপারীর বাড়ির সামনে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় নয়নকে উদ্ধার করে বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত নয়নকে হাসপাতালে নিয়ে আসা মো. সুমন আহমেদ জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নাসির বেপারী গ্রুপ ও মান্নান বেপারী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ককটেল বিস্ফোরণ হলে নয়নের মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
তিনি আরও জানান, নয়নের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার চেরাগ আলী বেপারী কান্দি এলাকায়। তিনি রহিম সরদারের ছেলে এবং পেশায় ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি ছিলেন। একই ঘটনায় মো. আতিক (২৮) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন, যিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আতিকের বাড়িও একই এলাকায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে যান। বিস্ফোরণে একটি টিনের ঘরের দেয়াল ও চালা উড়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূরে একটি রসুন ক্ষেতে এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সোহান বেপারী (৩২) নামে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহত নয়নের মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারী কান্দি এলাকায় সংঘর্ষ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই সোহান বেপারী নিহত হন। পরবর্তীতে আহত নয়নের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ওই ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল দুইজনে।

