চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ওবাইদুল আজিম রিংকু (৫০) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ওবাইদুল আজিম রিংকু, ফিলিং স্টেশন ও ইটভাটার একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার মিস্ত্রিপাড়ার বাসিন্দা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন রিংকু। পরে স্থানীয় হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হলে তার শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। ডেঙ্গু শনাক্তের পরপরই অত্যন্ত দ্রুত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। পরিস্থিতি খারাপ হলে সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ডেঙ্গুতে প্রাণ হারানো ব্যবসায়ী ওবাইদুল আজিম রিংকুর স্ত্রী ও দুই সন্তানও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। স্ত্রীর অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।
রিংকুর বন্ধু কামরুল হাসান জুয়েল জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। স্থানীয় হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার ডেঙ্গু রোগ ধরা পড়ে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার রাতে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার স্ত্রী-সন্তানও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় জেলায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৮০ জনের অধিক রোগি।
হাসপাতলের তথ্যমতে, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৮০০ ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে অন্তত্ব ১০ জনের। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট আইইডিসিআর-এর কীটতত্ত্ব জরিপে শহরের ৩৬ শতাংশ বাড়িতেই এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমন উদ্বেগজনক বাস্তবতার মুখেও স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভার কার্যক্রম সেই পুরোনো বৃত্তেই আবদ্ধ। লোক দেখানো পরিচ্ছন্নতা অভিযান ছাড়া বাস্তবমুখী ও সমন্বিত কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। প্রশাসনের ব্যর্থতার চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দিন বলেন, বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি ও এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হওয়ায় ডেঙ্গুর ভয়াবহ বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।