০৬ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ০২:১২:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পুঁজিবাজারে ৮ মাসে বিদেশি লেনদেন বেড়েছে ৩৭.৬ শতাংশ
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৫-১০-২০২৬
পুঁজিবাজারে ৮ মাসে বিদেশি লেনদেন বেড়েছে ৩৭.৬ শতাংশ

সংস্কার উদ্যোগ ও বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার ফলে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। শুধু তাই নয়, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই লেনদেনের পরিমাণ গত বছরের পুরো বছরের মোট লেনদেনের প্রায় ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে।



ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৭০১ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৯৮ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৯ টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ১৩ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ।


বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার পেছনে বাজার সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুঁজিবাজারকে ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে এমার্জিং মার্কেটে উন্নীত করার প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক সূচক নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, বিদেশি বিনিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমিয়ে আনার উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।


ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, বিদেশি লেনদেন বৃদ্ধির পেছনে ডিএসইর একক কোনো উদ্যোগ কাজ করছে না। বরং বাজারকে ফ্রন্টিয়ার থেকে এমার্জিং মার্কেটে উন্নীত করার প্রস্তুতি, এমএসসিআইসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের এনআইটিএ-সংক্রান্ত বিধি সহজ করা এবং টি+১ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় যাওয়ার উদ্যোগ—সব মিলিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা গেছে।


তিনি বলেন, বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস টাকা অ্যাকাউন্ট বা এনআইটিএ ব্যবস্থার একটি জটিলতা সম্প্রতি সহজ করা হয়েছে। আগে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পর প্রতিটি লেনদেনের সময় এনআইটিএ হিসাবের মাধ্যমে অর্থের হিসাব করতে হতো। ডিএসইর পক্ষ থেকে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মটি সহজ করে।


নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি লেনদেনের সময় আলাদাভাবে হিসাব না করে বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশ থেকে অর্থ প্রত্যাবাসনের সময় প্রয়োজনীয় হিসাব সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে বিদেশি বিনিয়োগের প্রক্রিয়া আগের তুলনায় সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এর পাশাপাশি টি+১ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় যাওয়ার উদ্যোগও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। পুঁজিবাজারে পেশাদার ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের সম্মিলিত প্রভাবে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে বলে মনে করেন নুজহাত আনোয়ার।


ডিএসই’র তথ্য বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই বিদেশি লেনদেনে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিক প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী। জানুয়ারিতে বিদেশি লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৭৭ কোটি ২৩ লাখ ৮৩ হাজার ৪৬৬ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬৩ কোটি ২৭ লাখ ৮০ হাজার ৭৯৫ টাকা।


মার্চে লেনদেন কমে ২৭২ কোটি ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৯৮০ টাকা এবং এপ্রিলে ১৭৫ কোটি ১৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬০ টাকায় নেমে আসে। তবে মে মাসে বিদেশি লেনদেনে বড় উত্থান ঘটে। ওই মাসে লেনদেন হয় ৮৩১ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ৭৭১ টাকা, যা চলতি বছরের প্রথম আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।


এরপর জুনে বিদেশি লেনদেন হয়েছে ৫৪০ কোটি ১৬ লাখ ৬১ হাজার ৪৭০ টাকা এবং জুলাইয়ে ৫২৩ কোটি ১৪ লাখ ৫২ হাজার ৯৬৬ টাকা। আগস্টে তা কিছুটা কমে ৩১৮ কোটি ৫৭ লাখ ২৭ হাজার ৯৯১ টাকায় দাঁড়ায়।


অন্যদিকে, ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে বিদেশি লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৯ টাকা। ওই বছরের জানুয়ারিতে লেনদেন ছিল ১৮১ কোটি ৮১ লাখ ৫ হাজার ১০৫ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ২৬৪ কোটি ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ২৬২ টাকা হলেও মার্চে কমে দাঁড়ায় ১৭১ কোটি ৯৬ লাখ ১৭ হাজার ৭৮৭ টাকা।


শেয়ার করুন