৩১ অগাস্ট ২০২৫, রবিবার, ০৯:২১:২০ অপরাহ্ন
চবি ও আশপাশ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩১-০৮-২০২৫
চবি ও আশপাশ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ নম্বর গেইট বাজারের পূর্ব সীমা থেকৈ পূর্বদিকে রেলগেইট পর্যন্ত রাস্তায় উভয়পাশে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। রবিবার দুপুর দুইটা থেকে ১ সেস্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত এই ১৪৪ ধারা জারি করেছেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন।


ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৪ ধারার আদেশে বলা হয়েছে, উল্লেখিত সময়ে এই এলাকায় সকল প্রকার সভা সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, গণজমায়েত, বিস্ফোরক দ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র ও সকল প্রকার দেশী অস্ত্র ইত্যাদি বহনসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৫ বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে অবস্থান কিংবা চলাফেরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।


রাতের সংঘর্ষের জরে ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেইট এলাকায় স্থানীয় জনসাধারণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।


এতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফসহ ৩০ জনের মতো শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এর আগে রাতে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।


প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে সংঘর্ষের জের ধরে আজ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ শুরু হয়ছে। এ সময় উভয়পক্ষ ইট-পাটকেল ছোঁড়া এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।


সংঘর্ষে নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ আরিফসহ অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমি এখন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আছি। পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।


বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, স্থানীয় গ্রামবাসী আজ সকালের পর জড়ো হয়ে আবারও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। এতে নতুন করে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। গ্রামবাসী চারপাশ থেকে শিক্ষার্থীদের ওপর দুই নম্বর গেইট এলাকায় হামলা করছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ।


আজ রবিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।


এ বিষয়ে অব্শ্যই আমরা আইনি পদক্ষেপ নেবো।’

জানা যায়, গতকাল শনিবার রাতে স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেইট সংলগ্ন এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৬০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে ২১ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চবির এক ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটের কাছে একটি ভবনে ভাড়া থাকেন। গতকাল রাত ১২টার দিকে তিনি ওই ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে দারোয়ানের সঙ্গে তার তর্ক হয়। একপর্যায়ে ভবনের দারোয়ান তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা দারোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে শিক্ষার্থীরা তাকে ধাওয়া করলে স্থানীয় লোকজন শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। তখন সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর স্থানীয় লোকজন মাইকে ডেকে লোক জড়ো করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন।


শেয়ার করুন