৩১ অগাস্ট ২০২৫, রবিবার, ০২:২০:১৭ পূর্বাহ্ন
ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে হলে বারবার নিজেকে বদলাতে হয়: সোনাক্ষী
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩০-০৮-২০২৫
ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে হলে বারবার নিজেকে বদলাতে হয়: সোনাক্ষী

২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দাবাং’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিনয়জীবন শুরু করেছিলেন স্টারকিড সোনাক্ষী সিনহা। বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের হাত ধরেই বড় পর্দায় হয়েছিল তার অভিষেক। তখন থেকেই তিনি বি-টাউনে আলোচনায় আসেন। পেরিয়ে গেছে এক দশকের বেশি সময়। নানা চড়াই-উতরাই পার হয়ে আজও তিনি রয়ে গেছেন সিনেমার ভুবনে। সর্বশেষ তাকে বড় পর্দায় দেখা গেছে ভাই কুশ সিনহা পরিচালিত ‘নিকিতা রায় এন্ড দ্য বুক অব ডার্কনেস’ ছবিতে। যদিও ছবিটি বক্স অফিসে সাড়া ফেলতে পারেনি, তবে অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন সোনাক্ষী। সামনে আরও কিছু দাপুটে চরিত্রে পর্দায় ফিরতে চলেছেন এই অভিনেত্রী। 


ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ফিল্মফেয়ারের সঙ্গে আলাপচারিতায় নিজের অভিনয়ভ্রমণ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সোনাক্ষী।




ভাই কুশ সিনহার পরিচালনায় ‘নিকিতা রায় এন্ড দ্য বুক অব ডার্কনেস’ ছবিতে সোনাক্ষী ছিলেন এক দাপুটে চরিত্রে। আধিভৌতিক থ্রিলারধর্মী এই ছবি ব্যবসায়িক সাফল্য না পেলেও সমালোচকেরা বলছেন, সোনাক্ষী তার অভিনয়গুণে ছবিটিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। ছবির গল্প ঘুরপাক খেয়েছে অতিপ্রাকৃত ঘটনা ঘিরে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে সোনাক্ষী কি ভুত বিশ্বাস করেন?


অভিনেত্রীর কথায়, ‘এ বিষয়ে আমার শতভাগ বিশ্বাস নেই, আবার পুরোপুরি অবিশ্বাসও করি না। বলা যায়, ৫০ শতাংশ বিশ্বাস আছে। অনেক সময় এমন মানুষের মুখে অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার গল্প শুনি, যাকে আমরা বিশ্বাস করি, তখন সেটা উড়িয়ে দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। ‘নিকিতা রায় এন্ড দ্য বুক অব ডার্কনেস’-এর শুটিংয়ের সময় আমরা গিয়েছিলাম বেশ কিছু ভৌতিক স্থানে। তবে আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনো অভিজ্ঞতা হয়নি।’


২০১০ সালে ‘দাবাং’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় সোনাক্ষীর। সালমান খানের বিপরীতে ‘রাজ্জো’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি এক লাফে পৌঁছে যান দর্শকের হৃদয়ে। ছবিটি মুক্তির পর বক্স অফিস কাঁপিয়ে দিয়েছিল। সোনাক্ষী শুধু সালমানের নায়িকা হয়ে ওঠেননি, হয়ে উঠেছিলেন বলিউডের নতুন সংবেদন।



সেই অভিষেক স্মৃতি হাতড়ে সোনাক্ষী বলেন, ‘অভিনয়ে আসার শুরুটা আমার জন্য খুব ভয়ের ছিল। একেবারেই অচেনা এক দুনিয়ায় পা রাখার ভয়ে আমি অস্থির হয়ে পড়েছিলাম। তখন আমার অভিনয়জীবন নিয়ে কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। ‘দাবাং’-এর কী হবে, আমার ক্যারিয়ার কোন পথে যাবে, কিছুই জানতাম না। ভয় যেমন ছিল, তেমনি ছিল রোমাঞ্চও। ছবিটি মুক্তির পর দারুণ হিট হয়েছিল। তবে প্রথম দিকে আমি বুঝতেই পারিনি, আমি সত্যি সত্যি নায়িকা হয়ে গেছি বা দর্শক আমার অভিনয়কে প্রশংসা করছেন। আসলে ‘দাবাং’-এর পর আর পেছনে তাকানোর সুযোগ পাইনি। একের পর এক ছবিতে অভিনয় করেছি। সব মিলিয়ে আমার এই যাত্রা সত্যিই দুর্দান্ত।’


সোনাক্ষীর অভিনয়জীবন শুধু বাণিজ্যিক ছবিতেই আটকে নেই। প্রথম দিকে সরল-সিধে নায়িকার চরিত্রে দেখা গেলেও অল্প সময়েই তিনি চরিত্রের ভেতরে বৈচিত্র্য আনেন। ‘লুটেরা’-তে দেখা গেছে এক আবেগঘন চরিত্রে, ‘আকিরা’-তে রূপ নিয়েছেন শক্তিমান অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে, ‘নূর’-এ ছিলেন সাংবাদিক, আর ‘ডবল এক্সেল’-এ সমাজের সৌন্দর্যবিষয়ক ধারণা নিয়ে দাঁড় করিয়েছেন ভিন্ন এক বক্তব্য।


সমালোচকদের মতে, সোনাক্ষী বাণিজ্যিক নায়িকার বাইরেও নিজেকে ভাঙতে শিখেছেন। তার সাহসী চরিত্র নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বোঝা যায়, নিজেকে কেবল ‘গ্ল্যামার গার্ল’ হিসেবে বেঁধে রাখতে চান না তিনি।


শেয়ার করুন