ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা, লার্ভিসাইড ও ফগার স্প্রে কার্যক্রম শুরু করেছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকা ও টিএন্ডটি কলোনিতে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
পরে নগরীর রেলগেট এলাকায় জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। উদ্বোধনকালে রাসিক প্রশাসক বলেন, তিন মাসের এই কর্মসূচির আওতায় নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ঝোপঝাড় পরিষ্কার, ড্রেনে লার্ভিসাইড ও ফগার স্প্রে এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হবে। শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। এ জন্য নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে, কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। তিনি আরও জানান, রাজশাহীকে সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এরই মধ্যে আড়াই লাখ বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার খায়রুল বাশার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফ এ এম আঞ্জুমান আরা বেগমসহ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা। এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চলতি বছর ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ২৫ দিনেই মারা গেছেন ৮ জন।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ জানান, মৃত ১৩ জনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫ জন, রাজশাহীর ৪ জন, কুষ্টিয়ার ২ জন এবং পাবনা ও নাটোরের একজন করে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী। ১১ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ২ জন শিশু। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) হাসপাতালে নতুন করে ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময় ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৬ জন। বর্তমানে ৯৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চলতি বছর মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৯২৯ জন।
অন্যদিকে, শনিবার সকালে পবা উপজেলার কাটাখালী পৌরসভা এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই জরুরি। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

