২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার, ০৫:৩৮:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সহিংসতার ইতিহাসের মাঝে ইসির বড় চ্যালেঞ্জ
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৬-০৯-২০২৬
সহিংসতার ইতিহাসের মাঝে ইসির বড় চ্যালেঞ্জ

দুয়ারে কড়া নাড়ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি অনেকটাই গুছিয়ে এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র, আচরণবিধি ও নির্বাচনী সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে অতীতের সহিংসতার অভিজ্ঞতা সামনে রেখে এবার শান্তিপূর্ণ ও সংঘাতমুক্ত নির্বাচন আয়োজন ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি মাসেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশের কথা জানিয়েছে ইসি।



স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকারের ভোট শুরু হতে পারে। সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।


তবে এবারের নির্বাচন ঘিরে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা অতীতের সহিংসতার ইতিহাস। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও আগের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সংঘাত ও প্রাণহানিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ২৩৬ জন নিহত হন। আর আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে প্রাণ হারান ১১৬ জন।


২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সুজনের মূল্যায়নেও ব্যাপক সহিংসতা ও নির্বাচনী বিরোধের তথ্য উঠে এসেছিল। সংগঠনটির হিসাবে, ওই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনপূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষ এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক বিরোধে ১৪৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।


নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মো. আব্দুল আলীম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের সহিংসতার অভিজ্ঞতা থেকে বের হয়ে আসতে কমিশনকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।


নির্বাচন কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা জেসমিন টুলী বলেন, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের প্রভাবমুক্ত থাকা কমিশনের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। তার মতে, যেকোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত থেকে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। তা হলে একটি অর্থবহ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব।


শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছে ইসি। এ জন্য রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতা নেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে কমিশন। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সংঘাতমুক্ত করা কমিশনের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে রাজনৈতিক দলসহ সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।


স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা ও ১৩টি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদ নির্বাচন উপযোগী রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরে ৩ হাজার ৯৮১টি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে বা নির্বাচন উপযোগী হবে। বাকি ইউনিয়ন পরিষদগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে নির্বাচন উপযোগী হবে।


নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।


শেয়ার করুন