২০ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৭:১৫:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পদ্মা ও তিস্তায় ব্যারাজ তৈরি করব : প্রধানমন্ত্রী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০-১০-২০২৬
পদ্মা ও তিস্তায় ব্যারাজ তৈরি করব : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলছেন, রাজশাহীতে পদ্মা নদী আছে। আমরা দেখেছি কীভাবে পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। নদীর পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেই জন্যই আমরা সিদ্ধান্ত করেছি- বাংলাদেশের দুটি বড় নদীর একটি হচ্ছে তিস্তা, আরেকটি হচ্ছে রাজশাহীতে পদ্মা নদী। এই দুটি নদীতে আমরা ব্যারাজ তৈরি করব। যাতে করে আমাদের পানির সমস্যা আমরা দূর করতে পারি।  


মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে তাদের সাথে আমরা কথা বলব। দরকার হলে বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায় করার জন্য যতদূর আমাদেরকে যেতে হয় আমরা চেষ্টা করব। ততদূর যেতে, কিন্তু ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের পানির হিস্যা আমরা নিয়ে আসার চেষ্টা করব। আমরা এই পদ্মা ব্যারাজ এবং তিস্তা ব্যারাজের কাজ শুরু করব এবং শেষও করব ইনশাআল্লাহ।


তিনি বলেন, সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ৪ হাজারের কাছাকাছি আখচাষি ভাইদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছি। যাতে করে আগামী সিজনে আখ চাষিদের কিছুটা হলেও কষ্ট কম হয়। বিএনপি বিশ্বাস করে এই দেশের কৃষক বাঁচলে এই দেশের কৃষি বাঁচবে। বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হয়েছে। বিএনপির অনেকগুলোর পরিকল্পনা বা অনেকগুলো প্রতিশ্রুতির মধ্যে একটি ছিল কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানো। বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষক ভাইদের যাদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ আছে সেই কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করবে। সরকার গঠনের সাত দিনের মাথায় আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রেখেছিলাম। সমগ্র বাংলাদেশের ১৩ লাখ কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আমরা মওকুফ করে দিয়েছিলাম সুদসহ।


কৃষি কার্ড প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কৃষক ভাইদেরকে একটি কার্ড দিতে চাই- যেটির নাম হচ্ছে ফার্মারস কার্ড বা কৃষক কার্ড। এরই মধ্যে এর কাজ শুরু হয়েছে। ক্ষুদ্র কৃষক, মাঝারি কৃষক, প্রান্তিক কৃষক, ভূমিহীন কৃষক, বড় কৃষকের এই লিস্ট তৈরি করার কাজ  এগিয়ে চলেছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে এটার কাজ শেষ হবে। তখন ধীরে ধীরে আমরা কৃষক ভাইদের কাছে সেই কার্ডগুলো পৌঁছানোর চেষ্টা করব। এই বছর সমগ্র বাংলাদেশে আমরা ভূমিহীন প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষক নারী-পুরুষ ৪০ লাখ কৃষক ভাইয়ের কাছে আমরা কৃষি কার্ড পৌঁছে দেব।


তিনি বলেন, এই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কোনো কৃষক যদি বছরে দুইটি ফসল উৎপাদন করে, কোনো কৃষক যদি বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন করে, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে চেষ্টা করব অন্তত একটি ফসলের সার, বীজ, কীটনাশক যতটুকু সম্ভব পৌঁছে দেওয়া হবে। কিছুটা হলেও তার কষ্ট লাঘব হবে। শুধু তাই নয়, এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আপনি যেরকম আপনার ক্ষেতের ফসলের বীমা করতে পারবেন। একইভাবে আপনি যদি ব্যাংক ঋণগ্রহণ করতে চান তাহলে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আপনি সহজেই সেই ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।


তারেক রহমান বলেন, সমগ্র দেশে আমরা আবার খাল খনন এবং নদী সংস্কার বা নদী খনন কর্মসূচি শুরু করব। আল্লাহর রহমতে আমরা সেই কাজও শুরু করেছি। আগামী পাঁচ বছর আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। এর মধ্যে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল গত আট মাসে আমরা খনন কার্য সম্পন্ন করেছি। এই কাজ করার মাধ্যমে একদিকে যেরকম কৃষক ভাইয়েরা পানির সুবিধা পাবে। সেচের সুবিধা পাবে। রাজশাহীর মানুষ জানে কিভাবে এখানকার ভূগর্ভস্থ পানি কত নিচে নেমে গিয়েছে। বহু মানুষের সেই জন্য পানির কষ্ট সেই পানিও ধীরে ধীরে আবার রিচার্জ হবে এখানে।


রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে ১৩০০ শয্যা রয়েছে। এটি ২৫০০ হবে।  বিএনপি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রত্যেকটি উপজেলায় যে উপজেলা হাসপাতাল আছে এটির বেড সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আছে ৫০ বেড। এবার যেহেতু জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপিকে বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত করেছে সেজন্যই আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি প্রত্যেকটা উপজেলা হাসপাতাল ৫০ বেড থেকে আমরা ১৫০ বেডের হাসপাতালে তৈরি করব। যাতে করে গ্রামের মানুষ অল্পস্বল্প অসুখে কষ্ট করে দূরের সদর হাসপাতালে না যেতে হয়।


একটি মহল বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে অনেক ব্যবসায়ী আছেন জনসভার মধ্যে। ছোটখাটো মাঝারি বড় অনেক ব্যবসায়ী আছেন। একটি নরমাল কথা- যদি আপনার একটি দোকান থাকে দোকানের সামনে যদি আপনার কোন রকমের সমস্যা হয়, কোনো রকমের হইচই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়ে যায় সেদিন কি আপনার বনি (ব্যবসা) ভালো হবে? বিএনপি সরকার দেশে স্থিতিশীলতা আনতে চেষ্টা করছে। দেশে নিরাপত্তা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। বিএনপি সরকার চাইছে বন্ধ মিল কারখানাগুলো চালু করতে। বিএনপি সরকার চাইছে কৃষকদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে। বিএনপি সরকার চাইছে শ্রমিক ভাইদেরকে দক্ষতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে দেশে হোক বিদেশে হোক কর্মসংস্থান তৈরি করার চেষ্টা করতে।


তিনি বলেন, বিএনপি চাইছে বেকারত্বের যে অভিশাপ সেটি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে। কিন্তু আমরা দেখেছি কতগুলো মানুষ, একটি বিশেষ দল, কতগুলো দলকে সাথে নিয়ে তারা রাস্তায়-রাজপথের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছে। আমরা দেশি উদ্যোক্তাদেরকে উৎসাহ দিয়ে আনার চেষ্টা করছি, যে কীভাবে বন্ধ কল কারখানাগুলো চালু করা যায়। যাতে করে বাংলাদেশের বেকার শ্রমিকরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। কিন্তু এই সকল কাজকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য আমরা কতগুলো দল উঠে পড়ে লেগেছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছে।




শেয়ার করুন