১৫ এপ্রিল ২০২৪, সোমবার, ১০:৩৮:৪০ অপরাহ্ন
আসছে ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৯-১০-২০২২
আসছে ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম

সড়ক দুঘর্টনা এবং যানজট রোধে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। দেশে প্রথমবারের মতো গড়ে তোলা হবে ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম। এটি কার্যকর হলে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও উন্নত সড়ক পরিবহণ অবকাঠামো এবং পরিচালন ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। এজন্য ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস) শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২২ কোটি ৩ লাখ টাকা। এরমধ্যে সরকারি তহবিল থেকে আসবে ৩৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা এবং কোরিয়া ঋণ সহায়তা দেবে ৮৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে স্থাপন করা হবে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার। যেখান থেকে এ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পরীক্ষামূলকভাবে দেশের সবচেয়ে দ্রুতগতির সড়ক ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে এই পদ্ধতি চালু করা হবে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এই সড়কে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে দুর্ঘটনাও বেড়েছে। এটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের প্রধান সড়কগুলো এই পদ্ধতির আওতায় আসবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী একেএম মনির হোসেন পাঠান শনিবার যুগান্তরকে বলেন, এটি একটি আধুনিক ও নতুন সিস্টেম। এর মাধ্যমে যানবাহনগুলোকে রিয়েল টাইম মনিটরিং করা হবে। ফলে কোথায় যানজট আছে বা কোনো সমস্যা আছে কিনা সেসব নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। ফলে দুর্ঘটনা অনেক কমে আসবে। পাইলট ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। সফলতা এলে পর্যায়ক্রমে পুরো দেশের সব সড়ক এই সিস্টেমের আওতায় আনা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর ২৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (এসপিইসি) সভা। ওই সভায় প্রায় ২০টির মতো সুপারিশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে পরামর্শক ব্যয় সরকারি তহবিল থেকে অনেক বেশি প্রস্তাব করা হয়েছিল। পিইসি থেকে বলা হয়েছে, সরকারি খাতে পরামর্শক ব্যয় পুনঃপরীক্ষা করে যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যয় ১০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এটি মেনে এ খাতে ব্যয় ১০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এভাবে অন্যান্য সুপারিশগুলো মেনে নেওয়া হয়। ফলে প্রকল্পটি মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশের সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সঙ্গে সড়কে যানবাহনের পরিমাণ এবং গতি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনাও বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান যানবাহনকে নজরদারির আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন। পাশাপাশি সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমস (আইটিএস) খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে সড়ক নেটওয়ার্ককে একটি একক নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা হবে। এর মাধ্যমে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ী, যানজট ও দূষণমুক্ত এবং সর্বোপরি দুর্ঘটনামুক্ত একটি দক্ষ সড়ক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাবে। পরীক্ষামূলক (পাইলট) প্রকল্প হিসাবে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের (এন-৮) ৪০ কিলোমিটার সড়কের আইটিএস বাস্তবায়ন করার জন্য সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ এই কারিগরি সহায়তা (টিএপিপি) প্রকল্পটি প্রস্তাব করে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) সত্যজিৎ কর্মকার একনেক’র জন্য তৈরি কার্যপত্রে মতামত দিয়েছেন। এসময় তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আইটিএস সিস্টেমের মাধ্যমে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ী, যানজট ও দূষণমুক্ত এবং সর্বোপরি দুর্ঘটনামুক্ত একটি দক্ষ সড়ক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। সেই সঙ্গে দেশে বিদ্যমান আইন, বিধিমালাগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি সড়ক মাস্টার প্ল্যানও তৈরি করা হবে।

শেয়ার করুন