১৩ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৫:১১:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের পরিচয় মিলেছে
  • আপডেট করা হয়েছে : ১২-১০-২০২৬
নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের পরিচয় মিলেছে

সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২ ও আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ করেছে সরকার। একই সঙ্গে সেখানে আটকে পড়া প্রায় ৫০০ যাত্রীকে জরুরি সেবা ও সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।



মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন- মো. শাহেদ আহম্মদ ও মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। শাহেদ আহম্মদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তার বাবা মো. রফিকুল ইসলাম ও মা শাহেরা বেগম। সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন তিনি। তার ইকামাও ছিল। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটি কাটিয়ে দেশে থেকে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন শাহেদ।


অন্যদিকে, নাসরুল্লাহ বদরপুরির বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তার বাবা মোহাম্মদ উল্লাহ ও মা জাহানারা বেগম। ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়ে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন তিনি।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে গিয়েছিলেন। তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ দূতাবাস। পাশাপাশি আহত ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।


কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিন বাংলাদেশি—হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও মো. ওমর ফারুক। হাফেজ হাসানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায়। তার বাবা ইসহাক ও মা কমলা বেগম। কাজী নুরুল্লাহর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা গ্রামে। তার বাবা কাজী জয়নাল মিয়া ও মা শিউলি বেগম। হাসান ও নুরুল্লাহ দুজনই ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন এবং জেদ্দায় যাওয়ার জন্য রিয়াদ বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। অন্যদিকে ওমর ফারুক সৌদি আরবে কর্মরত। তিনি জেদ্দায় কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে ছিলেন। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।


রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাফফাত রহমান ও মো. দাউদুল ইসলাম। তাদের মধ্যে সাফফাত অচেতন অবস্থায় আছেন। সাফফাতের বাড়ি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তার বাবা মো. মোখলেসার রহমান ও মা রোকেয়া বেগম। দাউদুলের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তার বাবা মো. মহিব উল্লাহ ও মা রোকেয়া বেগম। দুজনই ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে গিয়ে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য রিয়াদ বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন।


রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন। সাইদুলের বাড়ি ঢাকার লালবাগের আমলিগোলা এলাকায়। তার বাবা মো. আবদুল হাই ও মা রহিমা বেগম। রিয়াজ উদ্দীনের বাড়ি ঢাকার মিরপুরের জনতা হাউজিং এলাকায়। তার বাবা মো. আবুল ফজল ও মা তাজকেরা বেগম। দুজনই ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।


প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আবদুল্লাহ। তার বাড়ি ঢাকার ডেমরার পূর্ব বক্সনগর এলাকায়। তার বাবা মো. মোখতার আহমেদ ও মা ফজিলাতুন নেসা। তিনিও ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।


সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিন বাংলাদেশি—আরমান হোসেন, মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আবদুল হক। আরমানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ইব্রাহিমনগরে। তার বাবা মো. মজিবুল হক ও মা শামসুন নাহার। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। অন্য দুজন দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি এবং তাদের ইকামা রয়েছে।


কিংডম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. রফিক মিয়া সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। তার ইকামা রয়েছে।


কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটিতে চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি হলেন ইসমাইল হোসেন, মো. মিসবাহ উদ্দীন হীরা ও মো. রায়হানুল ইসলাম। ইসমাইল ও রায়হানুল সৌদি আরবে কর্মরত। মিসবাহ উদ্দীন হীরার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন পাঁচ বাংলাদেশি। তারা হলেন সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহাদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোবেহ সাদেক মো. শাহজাহান সরকার। তারা সবাই সৌদি আরবে কর্মরত এবং তাদের ইকামা রয়েছে।


এস্টার সনদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল। আসাদুল সৌদি আরবে কর্মরত। জামালের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।


শেয়ার করুন