১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৩:৫৭:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ইইউর সমঝোতা
  • আপডেট করা হয়েছে : ১০-১০-২০২৬
চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ইইউর সমঝোতা

চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং নিজেদের বাজারে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য ফেরাতে নতুন সমঝোতায় পৌঁছেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। শুক্রবারের এ সমঝোতায় ইউরোপে চীনের হাইব্রিড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি রপ্তানি কমানোর পাশাপাশি বিরল খনিজ ও স্থায়ী চুম্বক রপ্তানির অনুমোদন সহজ করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।


ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইইউর বাণিজ্যবিষয়ক কমিশনার মারোশ শেফচোভিচ সমঝোতাটিকে আলোচনার ‘প্রথম ধাপের’ সমাপ্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের ভারসাম্য ফেরাতে আরও কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ইউরোপের নেতারা। আগামী সপ্তাহে ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের সম্মেলনে সমঝোতার বিস্তারিত পর্যালোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল না এলে পাল্টা ব্যবস্থার বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছে জোটটি।


চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্যে বুধবার বেইজিংয়ে যান শেফচোভিচ। সেখানে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাওয়ের সঙ্গে টানা দুই দিনের আলোচনা করেন তিনি।



ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ইউরো ঘাটতির মুখে পড়ছে জোটটি। কম দামের চীনা পণ্যের ব্যাপক আমদানি ইউরোপের বিভিন্ন শিল্প খাতের জন্য হুমকি তৈরি করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় নেতারা।


শেফচোভিচ বলেন, চীন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে হাইব্রিড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এর ফলে ইউরোপে চীনা গাড়ি রপ্তানির পরিমাণ অর্ধেকেরও বেশি কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।


সমঝোতার আওতায় চীনের বাজারে ইউরোপীয় বিভিন্ন পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর বিষয়েও অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন শেফচোভিচ। গাড়ির যন্ত্রাংশ, জলপাই তেল ও জুতাসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি সহজ হলে প্রায় ৪০০ কোটি ইউরো মূল্যের বর্তমান রপ্তানি বাণিজ্য উপকৃত হতে পারে। এতে অন্তত ২২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো শুল্ক সাশ্রয় হবে বলেও জানান তিনি।


গত বছরের জুনে আলোচনা শুরুর পর থেকেই বাজারে প্রবেশাধিকার ছিল ইইউ-চীন বাণিজ্য আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। ৪৫ কোটি ভোক্তার বিশাল বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীনের অতিরিক্ত উৎপাদিত পণ্য বিক্রির গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। তবে নিজেদের বাজারে ইউরোপীয় পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর বিষয়ে বেইজিংয়ের অনীহা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে ব্রাসেলসের।


একই সময়ে চীনা কোম্পানিগুলোর ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশ সীমিত করতে বিভিন্ন আইনগত পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছে ইইউ। পাশাপাশি ইউরোপীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার চাপও অব্যাহত রেখেছে জোটটি।


এ ছাড়া বৈদ্যুতিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং গাড়ি শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ ও স্থায়ী চুম্বক রপ্তানির অনুমোদন সহজ করতেও সম্মত হয়েছে চীন বলে জানান শেফচোভিচ।


২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যে বেইজিং বিরল খনিজ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। এরপর চীনের এসব খনিজের ওপর ইউরোপের নির্ভরশীলতাকে বেইজিং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তোলে ইইউ।


আগামী সপ্তাহে ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের সম্মেলনের আগে এ সমঝোতা হলো। গত বছরের জুন থেকে ইউরোপীয় কমিশনের নেতৃত্বে চলা আলোচনায় এবার দৃশ্যমান অগ্রগতির প্রত্যাশা করছেন জোটের নেতারা।


চীনের বাণিজ্যনীতির বিষয়ে ইইউর সদস্যদেশগুলোর মধ্যে কঠোর অবস্থানের পক্ষে ঐকমত্যও বাড়ছে। সোমবার জার্মানি ও ফ্রান্স ইউরোপীয় কমিশনের প্রতি আহ্বান জানায়, চীনের এমন বাণিজ্যচর্চার বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে, যা বাজারে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট করছে। দুই দেশ যৌথ নথিতে প্রয়োজনে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ইউরোপীয় একক বাজারের প্রবেশাধিকার অবিলম্বে বন্ধ করার মতো ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করে।


বুধবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরাও বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেন।


এদিকে রাসায়নিক, যন্ত্রপাতি, ধাতু, সৌরশক্তি, কাচ ও সিমেন্টসহ ইউরোপের ৪৪টি শিল্প খাত শুক্রবার যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা ও বাজারের বিকৃতি মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা না থাকলে ইউরোপের শিল্পভিত্তি, মানসম্মত কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ আকর্ষণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হবে।


সমঝোতাটি বাণিজ্য উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হলেও এর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে চীন ও ইইউ কীভাবে শর্তগুলো বাস্তবায়ন করে তার ওপর।


শেয়ার করুন