০৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:৩৯:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
১২ দিনেও সন্ধান নেই ঠাকুরগাঁওয়ের কলেজছাত্রীর, সীমান্ত পেরিয়ে পাচারের শঙ্কা পরিবারের
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-১০-২০২৬
১২ দিনেও সন্ধান নেই ঠাকুরগাঁওয়ের কলেজছাত্রীর, সীমান্ত পেরিয়ে পাচারের শঙ্কা পরিবারের

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে গভীর রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার পর শারমিন আক্তার (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীর সন্ধান মিলছে না। ঘটনার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। গ্রেপ্তার হয়নি মামলার কোনো আসামিও। এদিকে মামলার কয়েকজন আসামির ভারতে নিয়মিত যাতায়াতের অভিযোগ থাকায় শারমিনকে সীমান্ত পার করে পাচার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে তার পরিবার। শারমিন আক্তার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা পাড়িয়া ইউনিয়নের বামুনিয়া গ্রামের পশিরুল ইসলামের মেয়ে। তিনি লাহিড়ী ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।


পরিবারের অভিযোগ, গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মোবাইল ফোনে শারমিনকে বাড়ির বাইরে ডেকে নেন প্রতিবেশী রমিক চন্দ্র সিংহ (২৩)। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাকে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনার দুই দিন পর শারমিনের বাবা পশিরুল ইসলাম বাদী হয়ে রমিক চন্দ্র সিংহ, তার বাবা ও গ্রাম পুলিশ সুমন্ত চন্দ্র সিংহসহ পাঁচজনকে আসামি করে বালিয়াডাঙ্গী থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। তবে মামলা দায়েরের পরও এখন পর্যন্ত শারমিনকে উদ্ধার কিংবা কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মেয়ের সন্ধান না পেয়ে ভেঙে পড়েছেন শারমিনের মা। স্বজনরা জানান, মেয়ের চিন্তায় তিনি ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করছেন না। পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও বিরাজ করছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।


 শারমিনের বাবা পশিরুল ইসলাম বলেন, “আমার মেয়েকে যে কোনো মূল্যে উদ্ধার করে দিতে হবে। প্রধান আসামির বাবা এলাকায় ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে মেয়ের সন্ধান পাওয়া যাবে বলে মনে করি। কিন্তু এখন আসামিদের কাউকেই পাওয়া যাচ্ছে না।”স্বজনদের দাবি, মামলার কয়েকজন আসামির ভারতে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। দীর্ঘ সময়েও শারমিনের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তাকে সীমান্ত পার করে ভারতে পাচার করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এদিকে মামলার আসামিদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। বাড়িটির দেখাশোনা করছেন বৈশ্বানী রানী। তিনি বলেন, “মেয়ে ধরে রমিক পালাইছে। এরপর থেকে ওর বাবাও নাই। মুই বাড়ি পাহারা দিছু।”

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, পরিবার কিছুটা দেরিতে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছে। পরে অপহরণ মামলা নেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফোনের লোকেশন শনাক্তের মাধ্যমে আসামিদের গ্রেপ্তার ও কলেজছাত্রীকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।


শেয়ার করুন