১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ০২:৫৫:০৭ অপরাহ্ন
ইউনিফর্মে থাকা অবস্থায় আমরা কোনো পক্ষপাতিত্ব করতে পারবো না: বিমানবাহিনী প্রধান
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৫-০২-২০২৬
ইউনিফর্মে থাকা অবস্থায় আমরা কোনো পক্ষপাতিত্ব করতে পারবো না: বিমানবাহিনী প্রধান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বিমানবাহিনীর সদস্যদের কঠোরভাবে নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। 


বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের বিএএফ ঘাঁটি বাশারে আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইউনিফর্মে থাকা অবস্থায় কোনো বাহিনীর সদস্য কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করতে পারবেন না। 


কারো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতামত থাকতে পারে, তবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সেটি যেন কোনোভাবেই প্রকাশ না পায়, সে বিষয়ে তিনি সদস্যদের সতর্ক করে দেন। একটি নিরবিচ্ছিন্ন, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিতে বিমানবাহিনী অন্য বাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের রূপরেখা তুলে ধরে হাসান মাহমুদ খাঁন জানান যে, এবারই প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে সরাসরি দায়িত্ব পালন করবে বিমানবাহিনী। এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিমানবাহিনীর মোট ৩ হাজার ৭৩০ জন সদস্য সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন। 


নির্বাচনের দিন যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদস্যদের সর্বদা দৃশ্যমান থাকতে হবে এবং ঘাঁটিতে অবস্থানরতদের নিজ নিজ অবস্থানেই উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিমানবাহিনী প্রধানের এই নির্দেশনা মূলত নির্বাচনের সময় বাহিনীর শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনমনে আস্থা তৈরির একটি বড় প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।


এয়ার চিফ মার্শাল তার বক্তব্যে বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী ময়দানে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিমানবাহিনীর উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। 


কোনো বিশেষ দল বা প্রার্থীর প্রতি অনুরাগ যেন কর্তব্য পালনে বিঘ্ন না ঘটায়, সেদিকে নজরদারি বাড়ানো হবে। বিমানবাহিনীর ইতিহাসে মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনের সরাসরি দায়িত্ব পালন এটিই প্রথম হওয়ায় সদস্যদের যথাযথ প্রস্তুতির ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।


এই বিশেষ ব্রিফিং অনুষ্ঠানে বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি ঘাঁটিতে এখন নির্বাচনী প্রস্তুতির কাজ চলছে। সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই মোতায়েনের মূল লক্ষ্য। নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলাতেও বিমানবাহিনী সজাগ থাকবে বলে বিএএফ সূত্রে জানানো হয়েছে।


শেয়ার করুন