পানিতে আর্সেনিকের দূষণ কমেছে


, আপডেট করা হয়েছে : 09-04-2023

পানিতে আর্সেনিকের দূষণ কমেছে

দেশের ভূগর্ভস্থ পানিতে কমে গেছে আর্সেনিক দূষণ। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) ২০০৩ সালের জরিপে দেশের ৩৫ ভাগ ব্যবহারযোগ্য পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকের দূষণ পাওয়া যায়। ২০২১ সালে এক প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত আরেক জরিপে দেখা গেছে, মাত্রারিক্ত আর্সেনিক দূষণের পরিমাণ এখন ১৪ ভাগে নেমে এসেছে।

ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিকভাবেই পানিতে আর্সেনিক মিশ্রণ বৃদ্ধি পায়। আর্সেনিকযুক্ত পানি ব্যবহার করায় এক সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ আর্সেনিক আক্রান্ত হয়ে পড়েন। এরপর সরকার বিষয়টি আমলে নিয়ে আর্সেনিক মুক্ত পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেয়। ২০১৯ সালে ২৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি সরবরাহে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন নামে দুই বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি ২০২৩ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)। এর আওতায় ৫৪টি জেলার ৭১ লাখ টিউবওয়েলে আর্সেনিক পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, বিকল্প উৎস থেকে ব্যবহার বাড়ায় ২০২১ সালে আর্সেনিকযুক্ত পানি ব্যবহারের হার কমে দাঁড়ায় ১৪ ভাগ।

যেসব টিউবওয়েলে আর্সেনিক পাওয়া যায় সেগুলোকে লাল রং দিয়ে বিপজ্জনক বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। সেই টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করা থেকে এলাকাবাসীকে বিরত থাকার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয় ডিপিএইচই। আর্সেনিককবলিত এলাকায় পানির বিকল্প উৎস ব্যবহারে বিগত ৫ বছরে ১০ লাখ টিউবওয়েল দিয়েছে সরকার। এই কাজ এখনো চলমান।

জরিপে দেখা গেছে, দেশের সবচাইতে বেশি আর্সেনিকযুক্ত উপজেলা হচ্ছে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা। এই উপজেলার ৪০ ভাগ টিউবওয়েলেই আর্সেনিক ধরা পড়েছে। দেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে সবচাইতে নিরাপদ পানি বরিশালে। এই বিভাগে এখনো আর্সেনিক ধরা পড়েনি। এরপর রংপুর বিভাগে রয়েছে ৯৬ ভাগ নিরাপদ পানি। অন্যান্য জেলার মধ্যে রাজশাহীতে ৯২ ভাগ, ঢাকায় ৮৭, ময়মনসিংহ ৮৩ ভাগ, খুলনা ৮০, চট্টগ্রাম ৭১ ভাগ এবং সিলেটে ৬৫ ভাগ নিরাপদ পানি পাওয়া যাচ্ছে।

জেলাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চাঁদপুরে ৪১ ভাগ টিউবওয়েলে আর্সেনিক, গোপালগঞ্জ ও সাতক্ষীরায় ৩৫ ভাগ, লক্ষ্মীপুরে ৩২ ভাগ, নোয়াখালী ২৯ ভাগ, কুমিল্লায় ২৮ ভাগ, ফেনী ও মাদারীপুরে ২৬ ভাগ, ফরিদপুরে ২৫ ভাগ, নড়াইল ২০ ভাগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৯ ভাগ এবং বাগেরহাটের ১৮ ভাগ টিউবওয়েলে আর্সেনিক পাওয়া গেছে। বরিশাল, দিনাজপুর এবং নওগাঁ আর্সেনিক নেই।

পানি সরবরাহে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পের পরিচালক বিধান চন্দ্র দে আমাদের সময়কে বলেন, প্রকল্পের সুফল মানুষ পাচ্ছে। যেখানে যে টিউবওয়েলে আর্সেনিকের মাত্রা বেশি পাওয়া গেছে সেটি লাল রং দিয়ে পানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পাশের সবুজ রং টিউবওয়েল থেকে পানি নিয়ে ব্যবহার করার জন্য বলা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। নতুন করে আর বাড়বে কি না সেটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের গ্রাউন্ড ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের পরিচালক ড. আনোয়ার জাহিদ আমাদের সময়কে বলেন, অগভীর স্তরে যেখানে আর্সেনিক ছিল এখনো সেই অবস্থাতেই আছে। আর্সেনিক কমেনি। তবে সরকার বিকল্প উৎস ব্যবহারে নিরাপদ পানির সোর্স বাড়িয়েছে।

উৎস থেকে আর্সেনিক দূর করা দুরূহ বিষয় জানিয়ে আনোয়ার জাহিদ বলেন, ‘গ্রাউন্ড ওয়াটার যখন নেমে যাচ্ছে তখন বালির ফাঁকে ফাঁকে অক্সিজেন ঢুকছে। আবার যখন গ্রাউন্ড ওয়াটার ওপরে উঠে আসে অক্সিজেন বেড়ে যায়। এই অক্সিডেশন-রিডাকশনের জন্য যৌগ হিসেবে মিনারেলের স্তরে যে আর্সেনিক ছিল, সেই আর্সেনিক ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। আশা করি এক সময় প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে আর্সেনিক ফ্লাশিং হয়ে যাবে।’


  • সম্পাদক ও প্রকাশক: ইঞ্জিনিয়ার মো: রায়হানুল ইসলাম

  • উপদেষ্টাঃ মোঃ ইব্রাহীম হায়দার