রাজশাহীতে নগরায়ণে এগোলেও নাগরিক সুবিধায় পিছিয়ে


, আপডেট করা হয়েছে : 03-11-2026

রাজশাহীতে নগরায়ণে এগোলেও নাগরিক সুবিধায় পিছিয়ে

পরিচ্ছন্ন শহর, নির্মল বায়ু, সবুজ পরিবেশ আর তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক জীবনযাপনের জন্য একসময় দেশজুড়ে পরিচিতি ছিল রাজশাহীর। সেই পরিচিতি ধরে রাখতে নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক সম্প্রসারণ, সবুজায়ন ও নাগরিক সেবা বৃদ্ধিতে নেওয়া হয় নানা উদ্যোগ। কিন্তু নগরীর বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আবাসনসংকট, ফুটপাত দখল, জলাবদ্ধতা ও নাগরিক সুবিধার বৈষম্য। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রয়ে গেছে বড় ঘাটতি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, পরিকল্পিত নগরায়ণের পথে রাজশাহী আসলে কতটা এগিয়েছে?


গত ৩১ অক্টোবর সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও পালিত হয়েছে বিশ্ব নগর দিবস। জাতিসংঘ ঘোষিত দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন নিশ্চিত করতে নগর পুনরুজ্জীবন’। এ প্রতিপাদ্যের আলোকে রাজশাহীর নগরায়ণ পর্যালোচনা করলে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবতার মধ্যে বেশ কিছু ব্যবধান চোখে পড়ে।


২০১৪ সালের বাংলাদেশ বস্তি সুমারির তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী নগরীর ১০৪টি চিহ্নিত বস্তিতে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ পরিবারের ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। বর্তমানে বস্তিগুলোয় জনসংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব এলাকার অনেক মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে দিন কাটাতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত আবাসন, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, পয়োনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব তাদের নিত্যদিনের সমস্যা। বরেন্দ্র অঞ্চলের তীব্র তাপপ্রবাহে টিনের ঘরে বসবাস আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, আইনি ভূমিস্বত্ব না থাকায় উচ্ছেদ আতঙ্কও তাড়া করে তাদের।



গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজের (বারসিক) নৃবিজ্ঞানী ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাজশাহী নগরীর পরিকল্পনাগুলো ঠিক ছিল, কিছু ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধবও ছিল। কিন্তু নগরীর প্রান্তিক মানুষ ও বস্তিবাসীদের নিয়ে তেমন কোনো কার্যকর পরিকল্পনা আজও গ্রহণ করা হয়নি। গ্রিন সিটি হিসেবে এখানে সবার গুরুত্ব দেওয়া দরকার।’


এদিকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বস্তি উন্নয়ন কিংবা সামাজিক আবাসন নিয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ দেখা গেলেও রাজশাহীতে বস্তিবাসীদের জন্য সমন্বিত আবাসন পরিকল্পনা বা কার্যকর সরকারি বরাদ্দের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। অথচ পরিকল্পিত নগরায়ণের অন্যতম শর্তই হলো সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত আবাসন নিশ্চিত করা।



  • সম্পাদক ও প্রকাশক: ইঞ্জিনিয়ার মো: রায়হানুল ইসলাম

  • উপদেষ্টাঃ মোঃ ইব্রাহীম হায়দার