ছাত্রজীবন থেকেই মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আপোষহীন, সেমিনার করে মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়েছিলেন পুলিশ কমিশনার ফয়েজুল কবির


স্টাফ রিপোর্টার: , আপডেট করা হয়েছে : 31-10-2026

ছাত্রজীবন থেকেই মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আপোষহীন, সেমিনার করে মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়েছিলেন পুলিশ কমিশনার ফয়েজুল কবির

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) এর ইতিহাসে মানবিক পুলিশিংয়ের এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় অধ্যায় রচনা করেছেন রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) এ ভূষিত, অত্যন্ত সৎ, সাহসী ও জনবান্ধব পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন অত্যন্ত নম্র, ভদ্র, বিনয়ী, অমায়িক, মেধাবী ও চৌকস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান (Anthropology) বিভাগে পড়াশোনা করার সময় তিনি ছিলেন সকলের প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন। কখনো কারো সাথে উচ্চস্বরে কথা বলতেন না। অন্যদিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন আপোষহীন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ক্যাম্পাসে মাদক, সন্ত্রাস, র‍্যাগিং ও সকল প্রকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার কণ্ঠ। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই তিনি মাদক নির্মূলে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্যাম্পাস, হলে হলে এবং বিভাগে বিভাগে মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে সচেতনতামূলক সেমিনার, আলোচনা সভা, পথসভা ও লিফলেট বিতরণ করতেন। তিনি সহপাঠীদের মাদক থেকে দূরে রেখে পড়াশোনা, খেলাধুলা ও মানবিক কাজে উদ্বুদ্ধ করতেন। তার সেই ছাত্রজীবনের আদর্শই আজ তার কর্মজীবনে আলোকবর্তিকা।

গত ০৭ মে ২০২৬ তারিখে আরএমপির ৩৪ তম পুলিশ কমিশনার হিসেবে যোগদানের পর থেকেই তিনি রাজশাহী মহানগরীকে উপহার দিয়েছেন একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত নগরী। তার এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ গত ২১ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে তাকে মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) প্রদান করা হয়।

যোগদানের পরপরই তিনি মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন। তার নির্দেশে গত ৪ মাসে কাশিয়াডাঙ্গা, মতিহার, বেলপুকুর ও শাহমখদুম এলাকায় প্রায় ২০০ মাদকবিরোধী অভিযানে শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। ফোর্সের কল্যাণে গত ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ লাইন্সের ড্রিলশেডে মাসিক কল্যাণ সভা করে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সমস্যা শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন। তিনি পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা ও প্রতিটি থানায় খেলাধুলার সরঞ্জাম দেওয়ার নির্দেশ দেন। গত ৫ জুলাই তিনি রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সাথে বৈঠক করে নগরীকে চাঁদাবাজ মুক্ত করেছেন। সাহেব বাজার, লক্ষ্মীপুর ও আরডিএ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা এখন নির্ভয়ে ব্যবসা করছেন। কিশোর অপরাধ দমনে প্রতিটি থানায় কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ ইউনিট সক্রিয় করেছেন। গত ১৯ আগস্ট আরএমপি ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের ৩০ জন কর্মকর্তাকে নিয়ে সাইকোসোশ্যাল কেয়ার প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গত ২০ ও ২১ অক্টোবর শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ১০৯টি মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর তিন স্তরের নিরাপত্তায় সফল করেন। ৯ অক্টোবর শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের "অমনিভার্স সায়েন্স ফেস্ট-২০২৬ এ শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক হতে উদ্বুদ্ধ করেন।


  • সম্পাদক ও প্রকাশক: ইঞ্জিনিয়ার মো: রায়হানুল ইসলাম

  • উপদেষ্টাঃ মোঃ ইব্রাহীম হায়দার