কৃত্রিম সার সংকট সৃষ্টি করে অধিক মুনাফার আশায় সার মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গেছে দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন। অভিযান চালিয়ে উপজেলার কিসমত গণকৈড় এলাকার আড়ইল গ্রামের এক কীটনাশক বিক্রেতার বাড়ি থেকে অবৈধভাবে মজুত রাখা ৬৭০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত সার পরদিনই কৃষকদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবিবা'র নেতৃত্বে ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে আড়ইল গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় পলাতক কীটনাশক বিক্রেতা সাইদুল ইসলাম (৪৫), পিতা-মৃত লছির আলী'র বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সার উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত সারের মধ্যে রয়েছে ২৪৬ বস্তা ইউরিয়া, ১০০ বস্তা টিএসপি ও ৩২৪ বস্তা ডিএপি সার। অভিযুক্ত সাইদুল ইসলামের পুঠিয়া উপজেলার কার্ত্তিকপাড়া বাজারে একটি কীটনাশকের দোকান রয়েছে।
তবে তিনি সার বিক্রির কোনো লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ী নন বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস। জব্দকৃত সার মজুত রেখে নষ্ট না করে প্রশাসন তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেয়। ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে উপজেলার কিসমত গণকৈড় এলাকায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রকৃত কৃষকদের কাছে সারগুলো বিক্রি করা হয়। বিক্রিলব্ধ সম্পূর্ণ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। সময়োপযোগী এই অভিযানের জন্য দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, আগে সারের কোনো সংকট ছিল না। এখন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি লাভের জন্য সার মজুত করে আমাদের বেকায়দায় ফেলছে। আমরা ঘুরে ঘুরে সার পাচ্ছি না, অথচ একজনের বাড়িতে ৬৭০ বস্তা সার। প্রশাসন সময়মতো অভিযান চালিয়ে সারগুলো আমাদের হাতে তুলে দেওয়ায় আমরা উপকৃত হয়েছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা পারভীন লাবনী বলেন, অভিযুক্ত সাইদুল লাইসেন্সবিহীনভাবে সার মজুত করেছিলেন। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। জব্দকৃত সার কৃষকের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে হাবিবা বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। সার মজুত ও কালোবাজারি রোধে দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে। অভিযুক্ত সাইদুলকে আটক করা না গেলেও তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হবে এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আরো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো অবস্থাতেই কৃষককে ঠকতে দেওয়া হবে না। উপজেলা প্রশাসনের এই দ্রুত ও কৃষকবান্ধব সিদ্ধান্তে এলাকার কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। একই সঙ্গে সার মজুতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।