৩৪ ম্যাচ অপরাজিত মরক্কো, এবার কি বিশ্বকাপ জয়ের পালা?


, আপডেট করা হয়েছে : 05-07-2026

৩৪ ম্যাচ অপরাজিত মরক্কো, এবার কি বিশ্বকাপ জয়ের পালা?

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের রূপকথার পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে মরক্কো। কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আফ্রিকার দলটি। আর এই জয়ের মধ্য দিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার কীর্তিও ধরে রেখেছে আটলাস লায়ন্স।


কানাডার বিপক্ষে জয়টি অবশ্য নান্দনিক ফুটবলের নয়, বরং ছিল কার্যকর ও বাস্তববাদী ফুটবলের প্রদর্শনী। মাত্র পাঁচটি শট নিয়েই তিন গোল করেছে মরক্কো। বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসে এত কম শট নিয়ে জয়ের নজির আগে ছিল না। ম্যাচের প্রথমার্ধে শটের চেয়ে হলুদ কার্ডের সংখ্যাও ছিল বেশি, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম।


তবু জয়ই শেষ কথা। আর কঠিন ম্যাচে যেভাবে জয় তুলে নেওয়া যায়, সেটিই দেখিয়েছে মরক্কো।


২০২৫ সালের আগস্টে আফ্রিকান নেশনস চ্যাম্পিয়নশিপে কেনিয়ার কাছে ১-০ গোলে হারার পর থেকে আর কোনো ম্যাচে হারেনি মরক্কো। যদিও এই ৩৪ ম্যাচের রেকর্ডের মধ্যে সেনেগালের বিপক্ষে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের একটি বিতর্কিত ম্যাচও রয়েছে, যেখানে পরবর্তীতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে জয় দেওয়া হয় মরক্কোকে।


কানাডার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না। জনাথন ডেভিড ও টানি ওলুওয়াসেয়ির দুটি ভালো সুযোগ দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক বুনো। প্রথম ১৫ মিনিটে প্রতিপক্ষের বক্সে একবারও বল স্পর্শ করতে পারেনি মরক্কো।


তবে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় তারা। কানাডার কোচ জেসি মার্শও স্বীকার করেন, ‘মরক্কো কিছুটা চাপে ছিল, কিন্তু কখনো ভেঙে পড়েনি।’


সোনালি প্রজন্মের দুই দলের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত উজ্জ্বল ছিল মরক্কোই। ইনজুরির কারণে বেঞ্চে বসে থাকা আলফোনসো ডেভিসকে ছাড়াই খেলতে নামা কানাডার আক্রমণভাগকে কার্যকরভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেয় মরক্কোর রক্ষণ।


অধিনায়ক আচরাফ হাকিমি পুরো ম্যাচে ছিলেন দুর্দান্ত। আর ব্রাহিম দিয়াজ দুটি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে আফ্রিকার কোনো ফুটবলারের সর্বোচ্চ চার অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়েছেন।


মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বলেন, ‘প্রথমার্ধে ম্যাচটা কঠিন ছিল। বিরতিতে কিছু পরিবর্তন আনি। আমরা কখনো নিজেদের খেলার দর্শন বদলাইনি। কঠিন সময়েও ধৈর্য ধরে খেলেছি।’


২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়া মরক্কো এবারও একই পথ ধরে এগোচ্ছে। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পাশাপাশি এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের নকআউটে চারটি জয় পেয়েছে তারা। যা আফ্রিকার বাকি সব দেশের সম্মিলিত নকআউট জয়ের সমান।


তবে বিশ্লেষকদের মতে, মরক্কোর আসল পরীক্ষা এখনো বাকি। সম্ভাব্য কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হলে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।


বিবিসির বিশ্লেষক ক্রিস সাটন বলেন, ‘মরক্কো তাদের সেরা খেলাটা খেলেনি। সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা রয়েছে। প্রথমার্ধের মতো খেললে ফ্রান্সের বিপক্ষে তারা সমস্যায় পড়বে। তবে পাল্টা আক্রমণে তারা ভয়ংকর।’


মরক্কোর বর্তমান সাফল্যের পেছনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বড় ভূমিকা রয়েছে। দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের পৃষ্ঠপোষকতায় ২০০৯ সালে ফুটবল একাডেমি এবং ২০১৯ সালে প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয়ে আধুনিক প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হয়।



এই বিনিয়োগের ফলেই আচরাফ হাকিমি ও ব্রাহিম দিয়াজের মতো প্রবাসী প্রতিভাদের জাতীয় দলে যুক্ত করতে পেরেছে মরক্কো।


ওয়াহবি বলেন, ‘মরক্কো এখন আর কারও জন্য চমক নয়। এখন সবাই আমাদের বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখে। এটি কেবল শুরু। আমরা আরও অনেক বছর এমন ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই।’



  • সম্পাদক ও প্রকাশক: ইঞ্জিনিয়ার মো: রায়হানুল ইসলাম

  • উপদেষ্টাঃ মোঃ ইব্রাহীম হায়দার