জাতীয় সংসদের বুধবারের অধিবেশনে একগুচ্ছ জনকল্যাণমূলক ও সময়োপযোগী পরিবর্তনের ঘোষণা নিয়ে এলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারের আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনার এক স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।
অব্যবহৃত সরকারি ভবনগুলোকে জনসেবায় রূপান্তর, কৃষকের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং জনপ্রতিনিধিদের বিলাসিতা কমানোর মতো সাহসী সিদ্ধান্তগুলোর মাধ্যমে এক নতুন ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের ওপর। আরবান এলাকায় পড়ে থাকা সরকারি ২০০টি বহুতল ভবন দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে, যা কোনো কাজেই আসছে না। স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে এই ভবনগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হাতে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আগামী দুই মাসের মধ্যেই এসব ভবনকে আধুনিক হাসপাতাল ও মাতৃসদন ক্লিনিকে রূপান্তর করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাস্থ্য খাতের সংকট মোকাবিলায় তিনি আরও জানান, বিগত সময়ে হামের টিকা আমদানিতে যে অবহেলা করা হয়েছিল, তা কাটাতে বর্তমান সরকার ইউনিসেফের সঙ্গে কাজ করছে। দ্রুততম সময়ে প্রায় দুই কোটি শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হবে এবং কিট সংকট নিরসনেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
কৃষিখাতে প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগাতে বড় উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে বিশেষ কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক একসাথে ১০টি জরুরি সেবা পাবেন, যার ফলে কৃষি প্রণোদনা বা সহায়তার জন্য তাকে আর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জেলা শহরে যেতে হবে না। আধুনিক সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিতে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের যে মহাপরিকল্পনা সরকারের রয়েছে, তা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। কৃষকদের জন্য যন্ত্রপাতিতে ভর্তুকি, ন্যানো সারের ব্যবহার এবং আধুনিক কোল্ডস্টোরেজ স্থাপনের মাধ্যমে কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
সংসদ সদস্যদের বিলাসিতা পরিহারের ক্ষেত্রে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে কোনো সংসদ সদস্য ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি কিংবা সরকারি প্লট সুবিধা আর নেবেন না। ব্যক্তিগত মালিকানার পরিবর্তে সরকারি কার্যপরিচালনার জন্য প্রয়োজনে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করা যাবে, তবে তা ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে না। সংসদ সদস্যদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ বর্তমানে যে ৭০ হাজার টাকা ভাতা রয়েছে, সেটিই বহাল থাকবে।
শিশুদের জন্য সুখবর হিসেবে চলতি অর্থবছরে ২ লাখ শিশুকে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস, পাটের ব্যাগ ও জুতা প্রদানের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। উন্নয়নের এই যাত্রায় আইনের শাসন, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সাথে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টাকারী সিন্ডিকেট বা ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি তার অনড় অবস্থানের কথা সংসদকে অবহিত করেন।