যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল সামরিক অভিযানের মুখেও ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের জন্য অপেক্ষা করছি। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে তাদের মোকাবিলা করতে পারব, আর সেটি তাদের জন্য বড় বিপর্যয় হবে।’
গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি এ কথা বলেন।
সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযানের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আরাঘচি দৃঢ় সুরে বলেন, ‘না, আমরা তাদের জন্য অপেক্ষা করছি। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে তাদের মোকাবিলা করতে পারব, আর সেটি তাদের জন্য বড় বিপর্যয় হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইরান কোনো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়নি। আগের সংঘাতেও ইরান যুদ্ধবিরতি চায়নি। গত জুনে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর ইসরায়েলই যুদ্ধবিরতির আবেদন করেছিল।’
সাক্ষাৎকারে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার বিষয়টিও ওঠে, যেখানে বহু স্কুলশিশু নিহত হয়েছে। আরাঘচির দাবি, ওই হামলায় ১৭১ শিশু নিহত হয়েছে এবং এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল দায়ী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী এটি হয় যুক্তরাষ্ট্র, নয়তো ইসরায়েল করেছে। এর মধ্যে পার্থক্য কী?’
এদিকে সংঘাত শুরুর আগে গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করছিলেন আরাঘচি।
তবে আলোচনার মাঝেই হামলা চালানোয় ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো আলোচনার সম্ভাবনা দেখছেন না বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ইতিবাচক কোনো অভিজ্ঞতা নেই। বিশেষ করে এই প্রশাসনের সঙ্গে। আমরা গত বছর ও এ বছর দুবার আলোচনা করেছি, আর আলোচনার মাঝেই তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’
বর্তমান সংঘাতের ফলাফল নিয়েও হতাশার কথা জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধে কোনো বিজয়ী নেই। আমাদের জয় হলো অবৈধ লক্ষ্যগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া।’
এদিকে খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তার ছেলে মুজতবা খামেনি সম্ভাব্য উত্তরসূরি হতে পারেন—এমন গুঞ্জন রয়েছে।
তবে আরাঘচি বলেন ‘নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জন্য সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে এবং এ সিদ্ধান্ত নেবে ইরানের ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস। এ নিয়ে অনেক গুঞ্জন রয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কে নির্বাচিত হবেন, তা এখনই কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না।’
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চান—আর এই বিষয়টিও নাকচ করেন আরাঘচি।
তার বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণভাবে ইরানের জনগণের বিষয়। এখানে অন্য কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।’