রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার সাহেববাজারের স্বর্ণপট্টির "কারূশ্রী জুয়েলার্স" নামের জুয়েলারি দোকানে চুরির ঘটনায় জড়িত ৭ জন চোর এবং চোরাই মালামাল ক্রয়কারী ১ জন স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আরএমপির ডিবি পুলিশ। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন ২০২৬ তারিখ ভোরে অজ্ঞাত ১০/১২ জন চোর সাহেববাজার এলাকার কারুশ্রী জুয়েলার্সের পশ্চিম পাশের দেয়াল কেটে দোকানে প্রবেশ করে। এ সময় তারা সিন্দুক থেকে আনুমানিক ২০০ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ২০০ ভরি রুপা, ৩ বক্স স্বর্ণের নাকফুল এবং নগদ ২০ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তুর্য সরকার বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই সম্মানিত পুলিশ কমিশনার জনাব মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির মহোদয়ের নির্দেশে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। ডিবি, সাইবার ইউনিট ও সিসি ক্যামেরা ইউনিটের সমন্বিত অভিযানে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চোর চক্রকে শনাক্ত করা হয়। গত পরশু দিবাগত রাতে বাগেরহাট জেলার মোংলা থানা এলাকা থেকে মো: রুস্তম আলী শেখ (৬৪)-কে খুলনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- পিরোজপুরের স্বপন (৬২), উজ্জল (৩৭), রিয়াজ ওরফে সুমন ওরফে সুজন ওরফে গেদু (৩৯), ইউনুস (৪৫), বাগেরহাটের আবু তালেব (৪৫) ও মো: কালাম শেখ (৪৮)। পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মালামাল ক্রয়ের সঙ্গে জড়িত স্বর্ণ ব্যবসায়ী চাঁদপুরের রবিউল হাসান (৪৫)-কে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে চোরাইকৃত ২৬ ভরি স্বর্ণ, ৬২ ভরি রুপা এবং নগদ ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে পুলিশ পাহারায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা অত্যন্ত ধুরন্ধর প্রকৃতির। তারা একটি চুরির জন্য ৩-৪ মাস আগে থেকে পরিকল্পনা করে এবং একবারের বেশি কোনো মোবাইল ব্যবহার করে না। গ্রেপ্তারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করে প্রত্যেকের ৭ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। চুরি যাওয়া অন্যান্য মালামাল উদ্ধার ও অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।