চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা অহরহ শোনা যায়। তবে এবার ঘটেছে উল্টো ঘটনা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করার সময় ট্রেনের ছাদ থেকে স্টেশনের দিকে পাথর নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। এতে এক নারী আহত হয়েছেন।
ট্রেন থেকে স্টেশনের দিকে পাথর নিক্ষেপের অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতার চারজন হলেন—কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার দক্ষিণ পদুয়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম ওরফে বাপ্পি (২২), দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ছোট কালাইঘাটি গ্রামের শফিকুল কামাল (২৭), রাজশাহী মহানগরীর ভদ্রা জামালপুর এলাকার সবুজ আলী (৩৩) এবং কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম গ্রামের শরিফুল ইসলাম (৪৫)। তারা রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী ছিলেন।
সোমবার রাত ১১টা ২৫ মিনিটে ট্রেনটি রাবি রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করে। এ সময় ট্রেন থেকে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পাথরের আঘাতে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারী আহত হন। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
খবর পেয়ে বাঘার আড়ানী স্টেশনে ট্রেনটি থামায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও রেলওয়ে পুলিশ। এরপর শহিদুল ইসলাম, শফিকুল কামাল ও সবুজ আলীকে ট্রেনের ছাদ থেকে আটক করা হয়। আর কামরা থেকে আটক করা হয় শরিফুল ইসলামকে। তার কাছ থেকে কয়েকটি পাথর জব্দ করার দাবি করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
রাজশাহী রেলওয়ে থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা ফেসবুকে এর আগে এমন ঘটনা দেখেছি। রাতে খবর পাই, ট্রেনের ছাদে টিকিট ছাড়া অবৈধভাবে ভ্রমণরত কয়েকজন যাত্রী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাবি স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে অবস্থানরত যাত্রীদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। ঘটনার পর পুলিশের একটি দল আড়ানী স্টেশনে ধূমকেতু এক্সপ্রেসে অভিযান চালায়। এ সময় ট্রেন থেকে চারজনকে আটক করা হয়। আর রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাত আরও কয়েকজন ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে যায়।
ওসি জানান, গ্রেফতার চারজনের মধ্যে তিনজনের বাড়ি অন্য জেলায়। একজনের বাড়ি পার্বতীপুরে। তিনি ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। কেন ঢাকার ট্রেনে উঠেছিলেন, তার সদুত্তর দিতে পারেননি। তাই বিষয়টি রহস্যজনক। তারা কেন স্টেশনে পাথর নিক্ষেপ করেছেন, তাও স্বীকার করেননি। তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে রেলওয়ে আইনে মামলা করেছেন ট্রেনটিতে দায়িত্বে থাকা এটিএসআই আফজাল হোসেন। মঙ্গলবার দুপুরে আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, কিছুদিন ধরে রেলওয়ের সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে রেলপথ অবরোধ করছেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এরপর থেকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, রাবি রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করার সময় ট্রেন থেকে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা হচ্ছে।
সোমবার রাতের ঘটনার আগে দুই দিন এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। ট্রেন থেকে ছোড়া পাথর গিয়ে লাগছে দোকানপাটে। সোমবার রাতে একটি পাথর একটি দোকানের ফ্রিজে আঘাত করেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ট্রেন থেকে তাদের লক্ষ্য করেই পাথর ছোড়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান বলেন, কিছুদিন ধরে স্টেশনে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে চলন্ত ট্রেন থেকে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গতরাতে যারা গ্রেফতার হয়েছে, তাদের রিমান্ডে নিতে হবে। তাদের পেছনে অন্য কোনো চক্র বা ইন্ধনদাতা রয়েছে কিনা, জানতে হবে।