ক্ষমতা দিলে ২ ঘণ্টায় চাঁদাবাজি বন্ধ: ইনু


, আপডেট করা হয়েছে : 05-03-2024

ক্ষমতা দিলে ২ ঘণ্টায় চাঁদাবাজি বন্ধ: ইনু

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ক্ষমতা দিলে দুঘণ্টায় মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করে দেব। উত্তরবঙ্গের এক ট্রাক ঢাকায় পৌঁছতে ১৪ জায়গায় চাঁদাবাজি। হিসাব করে দেখেছি- ছয় হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। এটা কার ওপর পড়ে? ক্রেতা আপনার ওপরে পড়ে। টাকাটা আপনাকে দিতে হয়। ছয় হাজার টাকা চাঁদা এক ট্রাকে, বন্ধ করতে দুঘণ্টা সময় লাগে। দেন আমাকে ক্ষমতা, জাসদকে দেন। আমি দুঘণ্টার ভেতরে চাঁদাবাজি বন্ধ করে দেব; সম্ভব। এর জন্য কোনো অর্থনৈতিক পরিকল্পনা লাগে না।


সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় যুবজোটের রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


হাসানুল হক ইনু বলেন, মাত্র দুমাস হলো নির্বাচন শেষ হলো। একটা উত্তাপহীন রাজনীতির কথা ছিল। কিন্তু একটা গুমোট ভাব। কোনো উত্তেজনা নেই। বিরোধিতার মতো রাজনৈতিক যুদ্ধের ভেতরে নির্বাচন কখনো ভালো হয় না। তাই হয়েছে। কমতি আছে, ঘাটতি আছে, কিন্তু দিনের শেষে বাংলাদেশের এত বিরোধিতার মুখেও নির্বাচনের রাজনীতির অনিশ্চয়তা দূর করে নির্বাচনটা হয়েছে। একটা স্বস্তি এসেছে। কিন্তু নিম্নআয়ের মানুষ, দিন আনে দিন খায়, নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনে কোনো স্বস্তি আসেনি। তারা পেটের জ্বালায় জর্জরিত। তেল, নুন, পেঁয়াজ, চিনি, আদা রসুন, মরিচ, যেটাতেই হাত দেয় হাতে পুড়ে যাচ্ছে। সকালে একদাম, বিকালে ডাবল দাম।


ইনু বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হুঙ্কার ছাড়ছেন দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে। মন্ত্রীরা চিৎকার করছেন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে, কিন্তু দাম কমছে না। নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। তাহলে ব্যর্থ কে? শাসন ব্যর্থ। কেন তারা কথা শুনছে না? এটা কি সিস্টেমের দোষ, মুক্তবাজার অর্থনীতির দোষ, নাকি যারা দাম বাড়াচ্ছেন তারা সরকারের ছায়ায় বসবাস করেন যে তাদের গলা টিপে ধরা সম্ভব হচ্ছে না? প্রধানমন্ত্রী বলার পরেও দাম কমে না, অস্বাভাবিক ব্যাপার! এত শক্তি, এত সাহস, এটা কিভাবে সম্ভব! এই জিনিসপত্রের দাম ওঠানামা করছে কয়েক বছর ধরে।

তিনি বলেন, বিএনপি শেখ হাসিনাকে উৎখাত করার জন্য আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে। আমি বলব, আমার এই দেশে একাত্তরের অসম্ভব সাধন করেছি। পাকিস্তানিদের নাকের জল, চোখের জল এক করে পায়ের কাছে আত্মসমর্পণ করিয়েছি। নব্বইয়ের সামরিক শাসনকে বিদায় করেছি। সেই বাংলাদেশে বাজার সিন্ডিকেট দমন হবে না, এটা হতে পারে না। এত শক্তি কার! পাকিস্তান আর্মিদের চেয়েও শক্তিশালী। বিএনপি-জামায়াত সরকারের চেয়েও শক্তিশালী?


সাবেক মন্ত্রী ইনু আরও বলেন, দুঃখে আমার রাগ হলো। তো আপনারা মনে করছেন ইনু সাহেব ভোটে হারছে, এই জন্য রাগ করতেছে। না ভাই, আমি যখন মন্ত্রী ছিলাম, মন্ত্রিপরিষদে এভাবেই কথা বলেছি আঙ্গুল তুলে। এমপি থাকা অবস্থায় পার্লামেন্টে যা বলেছি, তাই বলছি আজ। কোন রাগের ব্যাপার নাই। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে জনগণকে যদি স্বস্তি দিতে না পারেন, সেই সুযোগ বিএনপি-জামায়াত নিবে। এই দুর্নীতির হোতা কে? আমি বহু গবেষণা করে দেখেছি তিন মাথার দানব এই দুর্নীতির হোতা। অসৎ ব্যবসায়ী, অসৎ রাজনীতিক আর অসৎ আমলা যে সিন্ডিকেট তৈরি করেছে এটা হচ্ছে তিন মাথার দানব। 


তার কথায় প্রধানমন্ত্রীকে রাগ না করার অনুরোধ জানিয়ে ১৪ দলীয় জোটের এই নেতা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার কথায় রাগ করবেন না। আপনি আপনার গোয়েন্দাদের কাছ থেকে আমার বক্তব্য শুনুন। চিন্তা করুন। আপনি এই রাজনৈতিক দুর্দিনে ১৫ বছর অনেক বিপদের ভেতরে দক্ষ নাবিকের মতো জাহাজকে পরিচালনা করেছেন। এখন এই দুর্নীতির সিন্ডিকেটের কারণে মাঝ দরিয়ায় আমাদের জাহাজটা ডুবতে পারে না। আপনি কেন পারবেন না দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভাঙতে। আমি মনে করি, পারতেই হবে। আপনি এখনই পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।


সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় যুবজোটের সভাপতি শরিফুল কবির স্বপন। যুবজোটের রাজশাহী মহানগর সভাপতি শরিফুল ইসলাম সুজনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুমন চৌধুরীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- জাসদের সহসভাপতি মজিবুল হক বকু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান রোকন, মহানগরের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ শিবলী।


সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জাসদের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউর রহমান শফি, রাজশাহী জেলা জাসদের সভাপতি প্রদীপ মৃধা, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল কবির বাবু, যুবজোটের কার্যকরী সভাপতি আমিনুল আজিম বনি প্রমুখ।



  • সম্পাদক ও প্রকাশক: ইঞ্জিনিয়ার মো: রায়হানুল ইসলাম

  • উপদেষ্টাঃ মোঃ ইব্রাহীম হায়দার