নতুন শুরু নিয়ে রোমাঞ্চিত হাথুরু


, আপডেট করা হয়েছে : 27-11-2023

নতুন শুরু নিয়ে রোমাঞ্চিত হাথুরু

চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সংবাদ সম্মেলন সাধারণত পাঁচ-সাত মিনিটে শেষ হয় না। কাল সিলেটে সংবাদ সম্মেলন পাঁচ মিনিট না যেতেই দলের ম্যানেজার ‘শেষ প্রশ্ন’ বলার পরও হাথুরু নিজেই সুযোগ দিলেন সংবাদকর্মীদের, ‘আরও প্রশ্ন করতে দিন।’


বিশ্বকাপ-ব্যর্থতায় অনেক প্রশ্ন জমেছিল দলকে ঘিরে। বিশ্বকাপ শেষ, বিশ্বকাপ ঘিরে প্রশ্নও এখন খুব একটা নেই। আরেকটি নতুন শুরুর সামনে বাংলাদেশ। কাল থেকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তৃতীয় চক্রে পা রাখছে বাংলাদেশ। এই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রটাও বাংলাদেশকে নতুনভাবে শুরু করতে হচ্ছে। দলে নেই সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, লিটন দাস। হাথুরু নিজেই আরও দুটি নাম মনে করিয়ে দিলেন, তাঁরাও নেই দলে—তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন। লিটন-তাসকিন-ইবাদত হয়তো দু-এক মাসের মধ্যে ফিরবেন। কিন্তু সাকিব-তামিম চলে এসেছেন ক্যারিয়ারের শেষ দিকে। তামিম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আদৌ ফিরবেন কি না, সেটি নিয়ে যথেষ্ট জল্পনাকল্পনা রয়েছে। আজ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। আর সাকিব বলেই দিয়েছেন, ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি দিয়ে ইতি টানতে চান ক্যারিয়ারের, যিনি এখন ব্যস্ত রাজনৈতিক মাঠে। গতকাল বাঁহাতি অলরাউন্ডার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন জাতীয় নির্বাচন করার।


সবকিছু মিলিয়ে দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের শেষের শুরুতে নতুন একটা যুগের সূচনার দিকেই তাকাতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। আর সেটির একটা মহড়া হয়ে যাচ্ছে কাল থেকে শুরু সিলেট টেস্টে। হাথুরুর ভাষায়, ‘এটি নতুন চেহারার বাংলাদেশ’। গতকাল বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কান কোচ এ নবযাত্রা নিয়ে বললেন, ‘যেকোনো দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের হারালে চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়; বিশেষ করে বাংলাদেশকে। এই দুই খেলোয়াড় ১৫ বছরের বেশি সব সংস্করণে দলের অংশ ছিল। কেউ ১০ বছর। আমাদের কাছে বিষয়টা সামনে তাকানোর, তরুণ ক্রিকেটাররা কী করতে পারে, সেটা দেখার। দীর্ঘ সময় ধরে খেলা খেলোয়াড়দের ছাড়া এগোনোর এটা সেই সময়। তারা তো সারা জীবন খেলবে না। আমি মনে করি, এটা রোমাঞ্চকর। তরুণদের জন্য বড় সুযোগ নিজেদের নামকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার। লম্বা ক্যারিয়ার গড়ার।’


শুধু কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে না পাওয়াই নয়, নতুন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তরও একটা পরীক্ষা হয়ে যাবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে। কোচিং স্টাফেও কিছু পরিবর্তন আছে। তবে এই পরিবর্তনকে বড় কোনো বিষয় মনে করেন না হাথুরু, ‘তেমন কিছুই না। আমরা ক্রিকেট নিয়েই তো কথা বলি। কোচিং স্টাফরা ক্রিকেট নিয়েই কথা বলে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং।


লিডারশিপ গ্রুপে নতুন অধিনায়কের জন্য এটা একটা সুযোগ নেতৃত্বে নিজের একটা পথ তৈরি করার। সে ভিন্নই হবে। তার জন্য যেমন সুযোগ, দলের বাকি খেলোয়াড়দেরও তা-ই। সে কীভাবে দলকে নেতৃত্ব দেয়, তাতে তারা অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। এসব পরিবর্তন নিয়ে আমি সত্যি রোমাঞ্চিত।’


টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগের দুটি চক্রে খুব একটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। দুটিতেই পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে ছিল। এবার বাংলাদেশ কি এখান থেকে একটু ওপরে উঠতে পারবে? হাথুরু নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে বলেছেন, ‘সব দলই ঘরের মাঠে জিততে গর্ববোধ করে। আমরাও ভিন্ন নই। নিজেদের কন্ডিশনে জেতার লক্ষ্য আমাদের। অ্যাওয়ে কন্ডিশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলা এবং জেতার চেষ্টা করব। এটাই পরিকল্পনা। নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে খুব ভালো জানি বলে বড় কিছুর কথা বলতে চাই না। আমরা উন্নতির পথে থাকা একটা দল। একটা রূপান্তরকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। রোমাঞ্চকর বিষয় হচ্ছে, কিছু ভালো তরুণ ক্রিকেটার এখানে আছে।’



  • সম্পাদক ও প্রকাশক: ইঞ্জিনিয়ার মো: রায়হানুল ইসলাম

  • উপদেষ্টাঃ মোঃ ইব্রাহীম হায়দার