essay writer
রাজশাহী | শনিবার | ফেব্রুয়ারী 24, 2018 | 12 ফাল্গুন, 1425

মান্দায় ২০ লাখ টাকা ঋণ জালিয়াতি : রাকাবের ফিল্ড অফিসার ও আইবির বিনিয়োগ ইনচার্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মান্দায় ২০ লাখ টাকা ঋণ জালিয়াতি : রাকাবের ফিল্ড অফিসার ও আইবির বিনিয়োগ ইনচার্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আব্দুর রউফ রিপন, স্টাফ করেসপন্ডেন্টঃ নওগাঁর মান্দায় মের্সাস সরদার ট্রের্ডাসের মালিক ও স্বত্তাধিকারী ফজলুর রহমান সরদারের বিরুদ্ধে ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে ইসলামী ব্যাংক মান্দা শাখা থেকে গত নভেম্বর মাসে সিসি ঋণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঋণ কেলেংকারী ও জালিয়াতির সাথে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) প্রসাদপুর শাখার এসিসিপি প্রকল্পের তৎকালিন ফিল্ড অফিসার গোলাম মাহবুব এবং বর্তমান ইসলামী ব্যাংক মান্দা শাখার বিনিয়োগ ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এ ঋণ জালিয়াতির কাজে সহায়তা করেছেন ও জড়িত রয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তাছাড়া কিভাবে একই জমি দুই ব্যাংকেই বন্ধক (মর্গেজ) রেখে ইসলামী ব্যাংক থেকে সিসি ঋণ নিয়েছে আর রাকাবে সিআইবি ছাড়া ঋণ নিয়েছে। এ ঘটনায় মান্দা উপজেলা জুড়ে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। ঋণ জালিয়াতির এ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ওই মহল ব্যাপক অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও এক সূত্র নিশ্চিত করেছে। শুধু তাই নয় রাকাবের ফিল্ড অফিসার গোলাম মাহবুব ঋণ পেতে শাখা ব্যবস্থাপকের নাম ভাঙ্গিয়ে লাখে ৪ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করে থাকেন বলেও অভিযোগ। ঋণের জন্য ৩০০টাকার নন জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্প দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা না দিয়েই ষ্ট্যাম্পের টাকাও আত্মসাৎ করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠায় ও অবস্থা বেগতিক দেখে গোলাম মাহবুব বর্তমানে মহাদেবপুর শাখায় বদলী হয়ে গেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার প্রসাদপুর ইউপি’র খুদিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত অহির উদ্দিন সরদারের ছেলে ফজলুর রহমান সরদার এবং তার স্ত্রী শাহানারা বেগমের নামে প্রায় দেড় একর জমি রয়েছে। রাকাব শাখায় এক একর জমির ভ্যালুয়েশন ৮লাখ টাকা হিসেবে ১২ লাখ টাকা হলে ২০১৫ সালে অভিযুক্ত ফজলুর রহমান সরদার রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) প্রসাদপুর শাখা থেকে এসিসিপি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১.১৪ একর জমি মর্গেজ দিয়ে ৫ লাখ টাকা ঋণ গ্রহন করেন ফিল্ড অফিসার গোলাম মাহবুব এর সহযোগিতায়। কিন্তু এ ঋণ আজ পর্যন্ত পরিশোধ না করেও সেই দুর্নীতিবাজ ফিল্ড অফিসার গোলাম মাহবুব এর সহযোগিতায় ঐ শাখায় বন্ধকী রাখা জমির মূল দলিলের ফটোকপি ৩০হাজার টাকার বিনিময়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে হস্তগত করেন ফজলুর রহমান সরদার। পরে ইসলামী ব্যাংক মান্দা শাখা থেকে গত নভেম্বর মাসে ওই জমির ফটোকপির সাথে আরো ৬১ শতাংশ জমি যোগ করে সিসি ঋণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তোলনের এ ঘটনাটি ঘটে। আর এ কাজে ব্যাংক শাখার বিনিয়োগ ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান অজ্ঞাত কারণে এ ঋণ জালিয়াতির কাজে সহায়তা করেন।

রাকাবের ফিল্ড অফিসার গোলাম মাহবুব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এর সাথে জড়িত নন।

রাকাবের বর্তমান ফিল্ড অফিসার শহিদুল হক জানান, ঘটনটি সত্য। তবে ফজলুর রহমান তার ওই জমির সাথে নতুন ভাবে অরো ৬১ শতাংশ জমি বাড়িয়ে ঋণ নিয়েছেন। আমি এব্যাপারে ওই ব্যাংক ম্যানেজার ও সংযুক্ত ব্যক্তির সাথে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমাদের ক্লিয়ারেন্স ছাড়া ব্যাংক কিভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে ঋণ পাশ করেন যা চরম জালিয়াতির মধ্যে পরে।

বিনিয়োগ ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান। তিনি এবিষয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে কোন কথা বলবেন না বলে জানিয়ে দেন। ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) মোঃ ওবায়দুল্লাহ্ জানান, তিনি ঘটনাটি বিস্তারিত জানেন না। তবে ইসলামী ব্যাংকে ভূয়া কাগজপত্র বা দলিলের ফটোকপি দিয়ে এ রকম ঋণ জালিয়াতি করার কোন সুযোগ নেই। আর তা ঘটে থাকলেও তদন্তপূর্বক এর সত্যতা পেলে কঠোরভাবে তার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে সদ্য বিদায়ী রাকাবের ব্যবস্থাপক আহম্মদ আলী প্রামানিক জানান, রাকাবের শাখায় ৫লাখ টাকার ঋণ পরিশোধ না করেই অন্য ব্যাংকে কিভাবে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ২০ লাখ টাকা সিসি ঋণ নিতে পেরেছেন, তা তার বোধগম্য হচ্ছে না। এ ঘটনায় বড় কোন চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে তার বিশ্বাস।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>