essay writer
রাজশাহী | বৃহস্পতিবার | জানুয়ারী 18, 2018 | 5 মাঘ, 1425

প্রচন্ড শীতে গাইবান্ধার দরিদ্র মানুষের অবস্থা কাহিল:জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রচন্ড শীতে গাইবান্ধার দরিদ্র মানুষের অবস্থা কাহিল:জনজীবন বিপর্যস্ত

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধ থেকেঃ ঘন কুয়াশা, উত্তরের হিমেল হাওয়া এবং কনকনে ঠান্ডায় গাইবান্ধার স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি এবং সদর উপজেলার চরাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারগুলো শীতবস্ত্রের অভাবে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রচন্ড শৈত্য প্রবাহে কাহিল হয়ে পড়েছে জেলার অসহায় দরিদ্র মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। দুপুর পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে সূর্য। শ্রমজীবি মানুষ প্রচন্ড শীতের কারণে কাজে যেতে পারছে না। স্কুল ও কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম।

লোক সমাগম না থাকায় শহর ও হাট-বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। ঘন কুয়াশার কারণে গাইবান্ধার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনাসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সকালের দিকে ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক পথে যানবাহন চলাচল করছে হেড লাইট জ্বালিয়ে। এছাড়া ঘন কুয়াশা ও শীতের কারণে বোরো বীজতলা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
প্রচন্ড শীতের কারণে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগে প্রচুর শিশু ভর্তি হচ্ছে। একমাত্র গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালে গত ৫ দিনে কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ শামচ্ছুন্নাহার এ তথ্য জানান।
ফুলছড়ির ফজলুপুর ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জালাল জানান, শীতে তার ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার দরিদ্র লোক অতিকষ্টে রয়েছে। এ পর্যন্ত সেখানে মাত্র জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ৩৭৫ জনকে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। যা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। অপরদিকে সুন্দরগঞ্জের বেলকা ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল¬াহ জানান, তার ইউনিয়নে ছিন্নমূল পরিবারের সংখ্য ৫ হাজার। শীতবস্ত্রের অভাবে খুব দুর্দশার মধ্যে তাদের দিন কাটছে। এখন পযন্ত তার ইউনিয়নে সরকারিভাবে ৪০০ পিচ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী জানান, গাইবান্ধার ৮২টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভায় এ পর্যন্ত ৫৪ হাজার ৭৫০ পিস দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। আরও প্রায় ৭০ হাজার কম্বলের চাহিদাপত্র অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>