essay writer
রাজশাহী | বৃহস্পতিবার | জানুয়ারী 18, 2018 | 5 মাঘ, 1425

রাণীনগরে গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগ

রাণীনগরে গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগ

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে এক গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে কাজের প্রলোভন দিয়ে এক গৃহবধূকে ধর্ষনের চেষ্টা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অসহায় গৃহবধূ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত আবেদন করলেও এখনো কোন প্রদক্ষেপই গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ২০ডিসেম্বর সকালে উপজেলার একডালা ইউনিয়নের মনিহারপুর (নাগরনদী) নামক স্থানে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার মানুষের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে। উপজেলার জলকৈ শিববাড়ী পাড়া গ্রামের মৃত-গীরিধারী দাসের ছেলে একডালা ইউনিয়ন পরিষদের (গ্রাম পুলিশ) দাফাদার শ্রী দীপচাঁন দাস পরিষদের পাশে যাত্রাপুর গ্রামের মো: শহিদুল হকের স্ত্রীকে সরকারি মাটি কাটা কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মনিহারপুর (নাগরনদী) নামক স্থানে নিয়ে গিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষনের চেষ্টার করে। ঘটনার পর থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলো কতিপয় কিছু লোকজন। এ ঘটনার পরে গৃহবধূ নাসরিনকে (ছদ্ম নাম) স্বামীর বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ায় নাসরিন এখন তার বাবার বাড়ি বড়গাছা ইউনিয়নের লক্ষ্মীকোলা গ্রামে অবস্থান করছেন। তাকে বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি প্রদান করার কারণে গৃহবধূ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। এদিকে স্থানীয় চেয়ারম্যান মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি রফাদফা করার চেষ্টা করছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

গৃহবধূ মোছা: নাসরিন বলেন, শ্রী দীপচাঁন দাস আমাকে সরকারি মাটি কাটার কাজ দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে মনিহারপুর নামক স্থানে নিয়ে গিয়ে আমাকে ধর্ষনের চেষ্টা করে। এ ঘটনার পরে আমাকে আমার স্বামীর বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। আমি বর্তমানে আমার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছি। তবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আমাকে বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি প্রদান করা হচ্ছে। তাই আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে নিয়ে থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিলেও এখনো পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি আরো বলেন কোথাও হারিজ হওয়ার জন্য কোন নোটিশ এখনো হাতে পায়নি।

এ বিষয়ে গ্রাম পুলিশ শ্রী দীপচাঁন দাস বলেন, আমার মান ক্ষুন্ন করার জন্য আমার বিরুদ্ধে এই রকম একটি মিথ্যে ঘটনা সাজানো হয়েছে। কতিপয় ব্যক্তিরা আমাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এই রকম নাটক করছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম জানান, আমি এই বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন দিয়েছি। নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এ ব্যাপারে রাণীনগর থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমার এবিষয়ে কোন কিছু জানা নেই তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া বিনতে তাবিব বলেন আমি উভয়পক্ষকে নোটিশ দিয়েছি। বাদী ও বিবাদী আসলে উভয়ের জবানবন্দি নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>