essay writer
ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের [11:55]      |   আজ ফজর থেকে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব [11:55]
রাজশাহী | শুক্রবার | জানুয়ারী 19, 2018 | 6 মাঘ, 1425

রাবিতে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে এবার শাশুড়ির অভিযোগ

রাবিতে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে এবার শাশুড়ির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুখসানা পারভীনের বিরুদ্ধে এবার তার শাশুড়ি অশালীন আচরণ, প্রাণনাশের হুমকিসহ নানাভাবে মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন।

বুধবার বেলা ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর ওই শিক্ষিকার শাশুড়ি এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তবে রুখসানা পারভীন বিষয়টি পারিবারিক বলে দাবি করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌসের কাছে অভিযোগপত্র জমা দেয়ার সময় রুখসানা পারভীনের শাশুড়ি রোকেয়া বেগম এবং ননদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগেরই সাবেক শিক্ষার্থী দিলারা সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগপত্রের সাথে তারা প্রমাণস্বরূপ রুখসানা পারভীনের সাথে ফোনে কথোপকথনের বেশকিছু রেকর্ডিং জমা দিয়েছেন। এসময় তারা ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান।

লিখিত অভিযোগপত্রে রোকেয়া বেগম উল্লেখ করেন, ‘আমার একমাত্র ছেলের সাথে রুখসানা পারভীনের বিবাহের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে এবং বর্তমানেও নানাভাবে আমাকে ও আমার পরিবারের অন্যান্যদের চরমভাবে অপমান-অপদস্ত, অরুচিকর আচরণ এবং নানা ধরনের হুমকি-ধমকি অব্যাহত রেখেছে। এই মহিলা (রুখসানা পারভীন) আমাকে প্রাণনাশের হুমকিসহ ভাষায় অপ্রকাশযোগ্য গালাগালি এবং নানা ধরণের মানসিক নির্যাতন করে আসছে।’

ওই শিক্ষিকার ননদ দিলারা সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে সে (রুখসানা) আমাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করার জন্য আমার ভাইকে চাপ দিত। কোন কারণ ছাড়াই প্রায় সময় রুখসানা আমাদের ফোন দিয়ে অশালীন-অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাসহ হুমকি-ধমকি দেয়।’

পারিবারিক বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় পযন্ত কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে দিলারা সুলতানা বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধান করতে চেয়েছি। কিন্তু রুখসানা আমাদের সাথে গণ্ডগোল অব্যাহত রেখেছেন। তাই আমরা নিরুপায় হয়ে তার (রুখসানা) উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের (বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন) কাছে প্রতিকার চাইছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এটি তাদের পারিবারিক বিষয়। কিন্তু যেহেতু তারা অভিযোগ দিয়েছেন তাই এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুখসানা পারভীন বলেন, ‘আমি অভিযোগের বিষয়ে কিছু জানি না। এটি একান্তই পারিবারিক বিষয়। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।’

প্রসঙ্গত, গতবছরের ২৭ জুলাই থেকে বিভাগের শিক্ষকরা দুইভাবে বিভক্ত হয়ে একে অপরের নামে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আনা শুরু করেন। এক পক্ষে রুখসানা পারভীন ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং অন্যপক্ষে বিভাগের বাকি ১১জন শিক্ষক অবস্থান নেন। পাল্টাপাল্টি অভিযোগের এক পর্যায়ে রুখসানা পারভীন বিভাগের একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিরও অভিযোগ আনেন। সার্বিক বিষয় তদন্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক আখতার ফারুকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

সর্বশেষ গতবছরের ৩০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭৫ তম সিন্ডিকেট সভায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিষয়টি ওঠে। এতে রুখসানা পারভীনের অভিযোগের কোন প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি। ফলে কেন মিথ্যা অভিযোগ আনার জন্য তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না এই মর্মে কারণ দর্শানোর চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ উঠলো।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>